কলকাতা, স্নিগ্ধা চৌধুরী: উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগে ১৬০০টি অতিরিক্ত শূন্যপদ বা সুপার নিউমেরারি পদ তৈরির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, আগের সরকারের জারি করা ওই সংক্রান্ত দুটি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে তৈরি ওই অতিরিক্ত পদগুলি কার্যত বাতিল হয়ে গেল।
উচ্চ প্রাথমিকে শারীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষা বিষয়ে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের উদ্দেশ্যে এই ১৬০০টি অতিরিক্ত পদ তৈরি করা হয়েছিল। ২০২২ সালের ১৯ মে এবং ১৪ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল তৎকালীন সরকার। নিয়োগ-সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতেই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদগুলি তৈরি করা হয়েছিল বলে রাজ্যের বক্তব্য ছিল।
তবে ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর একক বেঞ্চ অতিরিক্ত পদ তৈরির সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়মিত নিয়োগের মতো করে সুপার নিউমেরারি পদ তৈরি করা যায় না। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই ধরনের পদ তৈরির সুযোগ থাকলেও সাধারণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তা প্রয়োগ করা যায় না।
একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছিল রাজ্য। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকার আদালতে জানায়, পূর্বতন সরকারের ওই দুটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তারা আর নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে না। সেই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তি দুটিও প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এই মামলায় বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।
উল্লেখ্য, নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের জেরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়। সেই মামলার সময় অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির সিদ্ধান্তে শীর্ষ আদালত সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি। সেই নির্দেশের কথা উল্লেখ করেই কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
এখন অতিরিক্ত পদ বাতিলের পর উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগে নতুন সরকার কী পদ্ধতি নেয়, তা নিয়েই নজর চাকরিপ্রার্থীদের।