নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিতর্কে জড়ানো তরুণী ক্ষমা চাইলেন। একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে তাঁকে হাতজোড় করে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ভিডিওতে ওই তরুণী দাবি করেছেন, আন্দোলনকারীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন। নিজেকে ১৫ বছরের কিশোরী দাবি করে তিনি বলেন, যা করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য এবং এমন ভুল তাঁর জীবনে আর হবে না। গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানান, নিজের বক্তব্যের জন্য তিনি লজ্জিত এবং অনুতপ্ত।
তবে এই বয়সের দাবি নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে বয়স ২৫ বছর বলে উল্লেখ রয়েছে। ফলে তাঁর প্রকৃত বয়স নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে একটি জিরো এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
এই ঘটনার প্রসঙ্গ শুক্রবার রাতে ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তাতেও তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, তাঁকে শুধু নয়, তাঁর প্রয়াত মাকেও অপমানজনক মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সেই মন্তব্যের জবাবে প্রতিশোধের পথে না গিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেন।
মোদি বলেন, অপমান বা কটাক্ষ কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেক পড়ুয়া হয়তো ভুল নির্দেশনার কারণে ভুল পথে পরিচালিত হয়েছেন। তবে ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ সবার জীবনেই থাকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পরই অভিযুক্ত তরুণীর ক্ষমাপ্রার্থনার ভিডিও সামনে আসায় ঘটনাটি নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং তরুণীর বয়স নিয়ে এখনও প্রশ্ন থাকায় পুরো বিষয়টি তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করছে।