দুর্গাপুর, নিউজ ডেস্ক: সাড়ে তিন বছরের শিশুকে বাসি-পচা খাবার দেওয়ার অভিযোগ। ঘটানেকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের স্টিল মার্কেটে। জানা গিয়েছে, একটি ব্র্যান্ডেড কেক ও প্যাটিসের দোকান থেকে শিশুকে খাওয়ানোর জন্য চিকেন প্যাটিস কেনা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই চিকেন প্যাটিসের ভিতরে থাকা চিকেনের টুকরো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। আর সন্দেহ হয় শিশুর পরিবারের।
নেতাজি কলোনির বাসিন্দা লাল্টু দাসের অভিযোগ, সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে তিনি ওই দোকানে গিয়েছিলেন। মেয়ের জন্য একটি চিকেন প্যাটিস কেনেন তিনি। অভিযোগ, শিশুটি প্যাটিসের বেশিরভাগ অংশ খেয়ে ফেলার পর খাবারটি নিজেও খেয়ে দেখেন লাল্টুবাবু। তখনই প্যাটিসের ভিতরে থাকা চিকেনের টুকরো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান তিনি। এরপরই সেই দোকানের কর্মীদের বিষয়টি জানান তিনি।
সূত্র: https://x.com/jazzbaatbangla/status/2099839305757982962?s=20
দোকানের কর্মী স্বীকার না করে পাল্টা বলেন, 'আমাদের দোকানে যে প্রোডাক্ট আসে তা দিনের দিন সেল না হলে আবার রিটার্ন চলে যায়। কোনও কারণবশত হয়ত রয়ে গেছে ওই প্যাটিস। এরপরই বাসি-পচা খাবার দেওয়ায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিশুটির পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানানো দোকানে জানানো হলেও প্রথমে দোকানের কর্মীরা খাবারটি বাসি বা পচা নয় বলে দাবি করেন। তা নিয়ে দোকানের কর্মীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটিও হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে এ-জোন ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন লাল্টু দাস। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, পুলিশ দোকানটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি দোকানের ম্যানেজারকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। শিশুটি ওই খাবার খাওয়ার পর কোনও শারীরিক অসুস্থতায় পড়েছে কি না, তা নিয়েও পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর ওই খাবারের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাবারটি সত্যিই বাসি বা পচা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনায় দোকান কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে কলকাতা সহ জেলায় জেলাগর বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁ-দোকানে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। ইতিমধ্যে, কলকাতার মোট ৬৫ হোটেল-রেস্তোরাঁয় লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোথাও মিলেছে পচা মাছ-মাংস, কোথাও খাবারে মেশানো হচ্ছিল বিষ রং। আবার কোনও মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। খাদ্যসুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা, খারাপ বা অনিরাপদ খাবার বিক্রি করলে আর মিলবে না রেহাই। নিয়ম ভাঙলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।