বীরভূম: সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে বীরভূমের বিখ্যাত শক্তিপীঠ তারাপীঠ মন্দিরে। আর সেই কারণেই সাময়িকভাবে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মা তারার বিগ্রহ। তবে ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর, মায়ের পুজো বা দর্শন কোনওটাই বন্ধ হচ্ছে না। সংস্কারের পুরো সময়টাই মন্দির চত্বরের চন্দ্রচূড় শিব মন্দির থেকে মা তারার নিত্যপুজো ও দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ১০টার পর বিশেষ নিয়ম মেনে মা তারার বিগ্রহ মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে চন্দ্রচূড় শিব মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে মূল মন্দিরের সংস্কারের কাজ। সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন মা তারা। প্রতিদিনের পুজো, আরতি এবং ভোগ নিবেদনও নিয়ম মেনেই চলবে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, সংস্কারের আগে মন্দিরের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন দেশের একাধিক নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ারেরা। তাঁদের পরামর্শ ও নির্দেশিকা মেনেই সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে মূল গর্ভগৃহে পুজো দেওয়ার পর মন্দিরের সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে হাতুড়ি ও ছেনি দিয়ে সংস্কারের কাজের সূচনা করেন।
সংস্কারের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গর্ভগৃহের সামনের অংশে। ভক্তদের মায়ের দর্শন আরও সহজ ও স্বচ্ছন্দ করতে ওই অংশটি আরও চওড়া করা হবে। পাশাপাশি মা তারার বিগ্রহকে প্রায় আট ইঞ্চি উপরে তোলা হবে। এর ফলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেও ভক্তরা তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে মায়ের দর্শন করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহালয়া অমাবস্যার আগের দিন পর্যন্ত সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে মহালয়ার আগের রাতেই মা তারাকে ফের মূল গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
অর্থাৎ, সংস্কারের কারণে তারাপীঠে পুজো বন্ধ হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। চন্দ্রচূড় শিব মন্দির থেকেই নিয়মিত পুজো ও দর্শনের সুযোগ পাবেন ভক্তরা। সংস্কার শেষ হওয়ার পর আরও সুন্দর, প্রশস্ত এবং ভক্তবান্ধব পরিবেশে মা তারার দর্শন মিলবে বলেই আশা মন্দির কর্তৃপক্ষের।