কলকাতা: কারও অজান্তে তাঁর জমি বা বাড়ি অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঠেকাতে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে রাজ্য সরকার। জমি ও বাড়ি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে পরিচয় জালিয়াতি বন্ধ করতে চালু হতে চলেছে নতুন মোবাইল অ্যাপ ‘আপনি’।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে বিধাননগর পুরসভা এলাকায় এই অ্যাপ চালু করা হবে। প্রায় দু’সপ্তাহ ট্রায়াল রান চলার পর ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের সর্বত্র এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া।
নতুন ব্যবস্থায় জমি বা বাড়ি বিক্রির জন্য রেজিস্ট্রির আবেদন জমা দেওয়ার পর ক্রেতা এবং বিক্রেতা, দু’পক্ষকেই একটি নির্দিষ্ট ‘কোয়্যারি’ বা আবেদন নম্বর দেওয়া হবে। এরপর তাঁদের নিজেদের মোবাইলে ‘আপনি’ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে।
অ্যাপটির মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতিও বেশ অভিনব। নির্দিষ্ট কোয়্যারি নম্বর দিয়ে অ্যাপে প্রবেশ করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের সামনে মোবাইল ফোন ধরে দু’বার চোখের পাতা ফেলতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি ও পরিচয় যাচাইয়ের বার্তা পৌঁছে যাবে রাজ্যের নির্দিষ্ট পোর্টালে।
তবে সেই তথ্য সাধারণভাবে দেখা যাবে না। রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রি অফিসের নির্দিষ্ট আধিকারিকরাই যাচাইয়ের ফল দেখতে পারবেন। অর্থাৎ, ক্রেতা-বিক্রেতার পরিচয় ও উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রির মূল প্রক্রিয়ায় এগোনো যাবে না।
শুধু চোখের পলক নয়, এই ব্যবস্থায় ‘জিয়ো-ফেন্সিং’ প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট দিনে যে রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার কথা, সেখানেই উপস্থিত থেকে পরিচয় যাচাই করতে হবে। বাড়িতে বসে বা অন্য কোনও জায়গা থেকে এই যাচাই করার সুযোগ থাকবে না।
প্রশাসনের আশা, এর ফলে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো বিক্রেতা সেজে জমি বা বাড়ি বিক্রির মতো জালিয়াতি অনেকটাই আটকানো সম্ভব হবে। পরিচয় যাচাইয়ের সময় কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়াও সেখানেই আটকে দেওয়া যাবে।
এর আগে জমি জালিয়াতি রুখতে রেজিস্ট্রির সময় জমির মালিকের মোবাইলে OTP পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের একাংশের দাবি, সেই ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে সেটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
তাই এবার আরও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিনির্ভর পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে সরকার। অর্থ দফতরের অধীন ডাইরেক্টরেট অফ স্ট্যাম্প ডিউটি অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন এই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে।
নতুন অ্যাপ চালু হলে রেজিস্ট্রি অফিসে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি এবং পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক হবে। ফলে মালিকের অজান্তে সম্পত্তি হস্তান্তর, ভুয়ো পরিচয়ে রেজিস্ট্রি এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো অভিযোগে লাগাম টানাই এখন নবান্নের মূল লক্ষ্য।