নয়াদিল্লি: UPI ব্যবহারকারীদের জন্য বড় প্রশ্ন ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেন করলেই কি এবার থেকে অতিরিক্ত মাশুল দিতে হবে? কেন্দ্রের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর এই প্রশ্নই ঘুরছে কোটি কোটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারকারীর মধ্যে। তবে আপাতত স্বস্তির খবর, ২,০০০ টাকার বেশি UPI পেমেন্ট করলেই গ্রাহকের কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনও চার্জ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ২,০০০ টাকা পর্যন্ত UPI লেনদেন এবং RuPay ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পেমেন্টে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত মাশুল নেওয়া যাবে না। ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট সিস্টেম প্রদানকারী সংস্থাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ধরনের লেনদেনে কোনও চার্জ বসাতে পারবে না।
অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি UPI-এর মাধ্যমে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত টাকা পাঠালে সেই লেনদেনের জন্য আলাদা করে ‘ট্রানজ়াকশন ফি’ দেওয়ার প্রশ্ন নেই। RuPay ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
কিন্তু আসল ধোঁয়াশা শুরু হচ্ছে ২,০০০ টাকার সীমা পেরোলেই। অনেকের মধ্যেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ২,০০১ টাকা বা তার বেশি UPI পেমেন্ট করলেই হয়তো এবার অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হবে। এমন কোনও নিয়ম এখনও ঘোষণা করেনি কেন্দ্র।
সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে মূলত নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পেমেন্টের ক্ষেত্রে মাশুল আরোপের আইনি কাঠামো নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২,০০০ টাকাকে UPI ব্যবহারের নতুন সর্বোচ্চ সীমা বা চার্জ বসানোর সীমা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
ভবিষ্যতে UPI ব্যবস্থায় Merchant Discount Rate বা MDR চালু করা হতে পারে এমন আলোচনা অবশ্য রয়েছে। তবে সেটি মূলত নির্দিষ্ট সীমার উপরে কিছু ব্যবসায়িক বা মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্ভাব্য MDR-এর হার ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৪ শতাংশের মধ্যে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে কোনও নির্দিষ্ট MDR হার ঘোষণা করা হয়নি।
আর এখানেই সাধারণ গ্রাহকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল ভবিষ্যতে MDR চালু হলেও তার অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক UPI ব্যবহারকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা করে টাকা কেটে নেওয়া হবে। MDR মূলত পেমেন্ট ইকোসিস্টেম বা মার্চেন্টের উপর আরোপিত চার্জ হতে পারে।
এদিকে দেশে UPI ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে UPI ব্যবস্থায় সক্রিয় ব্যাঙ্কের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪টি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৪১। একই মাসে UPI লেনদেনের সংখ্যা পৌঁছেছে রেকর্ড ২,৩৬৬ কোটিতে।
লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং অনলাইন জালিয়াতি ঠেকাতে খরচও বাড়ছে। সেই কারণেই দীর্ঘমেয়াদে UPI ব্যবস্থাকে টেকসই রাখতে রাজস্ব সংগ্রহের নতুন মডেল নিয়ে ভাবছে কেন্দ্র।
তবে আপাতত সাধারণ UPI ব্যবহারকারীদের জন্য বার্তা পরিষ্কার ২,০০০ টাকার বেশি পেমেন্ট করলেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে চার্জ কেটে নেওয়া হবে, এমন কোনও সরকারি নিয়ম এখন নেই। ফলে ২,০০০ টাকার সীমা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।