নয়াদিল্লি: এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা EPF-এর নিয়মে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ₹১৫,০০০ টাকার বেতনসীমা বাড়িয়ে ₹২৫,০০০ করার প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অনুমোদন পেলে ২০১৪ সালের পর এটি EPF বেতনসীমায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মীর বেসিক বেতন এবং মহার্ঘ ভাতা (DA) মিলিয়ে মাসিক মজুরি ₹১৫,০০০ পর্যন্ত হলে EPF ও Employees’ Pension Scheme বা EPS-এর আওতায় আসা বাধ্যতামূলক। ₹১৫,০০০-এর বেশি বেতন হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে EPF-এ যোগদান ঐচ্ছিক হতে পারে।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই সীমা বেড়ে ₹২৫,০০০ হতে পারে। অর্থাৎ, যাঁদের বেসিক ও DA মিলিয়ে বেতন বর্তমানে ₹১৫,০০১ থেকে ₹২৫,০০০-এর মধ্যে, তাঁদেরও বাধ্যতামূলকভাবে এই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার পথ তৈরি হবে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কর্মীদের মাসিক হাতে পাওয়া বেতনে। কারণ EPF-এ কর্মীর অবদান বাড়লে প্রতি মাসে বেতন থেকে PF বাবদ কাটা টাকার পরিমাণও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, মাসের শেষে হাতে পাওয়া টাকা কিছুটা কমতে পারে। তবে একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
শুধু EPF নয়, EPS বা পেনশন স্কিমেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে নিয়োগকর্তার ১২ শতাংশ অবদানের একটি অংশ EPS-এ যায়। প্রচলিত ₹১৫,০০০ টাকার সীমা ধরে EPS-এর সর্বোচ্চ মাসিক অবদান ₹১,২৫০ পর্যন্ত হয়।
যদি EPS-এর ক্ষেত্রেও বেতনসীমা ₹২৫,০০০ করা হয়, তাহলে ৮.৩৩ শতাংশ হিসাবে মাসিক EPS অবদান প্রায় ₹২,০৮৩ হতে পারে। এর ফলে পেনশনযোগ্য বেতনের সীমা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন পেনশনের অঙ্কও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে শ্রম মন্ত্রকের হিসাব উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, বেতনসীমা বাড়ানো হলে এক কোটিরও বেশি অতিরিক্ত কর্মচারী আনুষ্ঠানিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন। তবে কতজন কর্মী বাস্তবে নতুন করে এই ব্যবস্থার আওতায় আসবেন, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর নিয়মের উপর নির্ভর করবে।
EPF-এর ‘Defined Contribution Component’ বা DCC-তেও পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব এবং তার আর্থিক প্রভাব এখনও নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের উপর।
তাই আপাতত কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—₹২৫,০০০ বেতনসীমা এখনও চূড়ান্ত নিয়ম নয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং পরবর্তী সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নতুন নিয়মের সঠিক কাঠামো, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং কর্মীদের বেতনে প্রকৃত প্রভাব স্পষ্ট হবে।
ফলে নতুন নিয়ম চালু হলে একদিকে মাসিক হাতে পাওয়া বেতন কমার সম্ভাবনা থাকলেও অন্যদিকে EPF সঞ্চয় এবং EPS-এর মাধ্যমে অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার পরিমাণ বাড়তে পারে। কর্মীদের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কতটা পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।