২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রাণনাশের একাধিক হুমকি পেয়েছেন লিওনেল মেসি। স্পেনের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সময় ফুটবলারদের মধ্যে সবথেকে বেশি এবং মারাত্মক হুমকি দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনার মহাতারকাকে। পুলিশি নথিতে মেসিকে বিস্ফোরক দিয়ে হামলার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। তবে একা মেসি নন। আরও বিভিন্ন ফুটবলার, আধিকারিক এবং রেফারির বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
উক্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমেরিকা-সহ অংশগ্রহণকারী দেশগুলির বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআইয়ের সমন্বয়ে একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করেছিল। ডালাসে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডন ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, তিনি আরও দু’জনের সঙ্গে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। আর তাঁদের কাছে রয়েছে ‘হোমমেড বোমা’ এবং একটি AR-15। পুলিশ এবং দুই দলের ফুটবলারদের লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় মেসির নামও।
আটলান্টায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগেও এল এম টেনকে ঘিরে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। একটি 'এক্স' অ্যাকাউন্ট থেকে নাকি হুমকি দেওয়া হয়েছিল, ওই ব্যক্তি স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে বিস্ফোরক দিয়ে হামলা করবেন। এর পর ম্যাচ চলাকালীন পুলিশ আরও একটি ফোনকল পায়। এই ফোনকলে স্টেডিয়ামের তিনটি আলাদা ডাস্টবিনে বোমা রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং কে-নাইন দল দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছিল স্টেডিয়ামে।
মেসিই অবশ্য একমাত্র তারকা নন, যাঁর নাম নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে। পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও বিশ্বকাপ চলাকালীন লাগাতার নজরে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী রোনাল্ডোর হোটেলের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করা এক সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দেখে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেন। বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি ওই আন্তর্জাতিক রিপোর্টে ফুটবলারদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার এবং বিভিন্ন ম্যাচের ভেন্যু নিয়েও হুমকি ও সন্দেহজনক গতিবিধির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছিল।