শুক্রবার ওড়িশাকে হারিয়ে সমর্থকদের আগাম দীপাবলির উপহার দিয়েছিল মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সম্পূর্ণ উল্টো ছবি ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। চেন্নাইয়ের মেরিনা এরিনায় পাঁচ গোল হজম করে কার্যত ছারখার লাল-হলুদ। চেন্নাইয়িন এফসির কাছে ৩-৫ গোলে হারল হাবাসের দল। প্রথম দু’টি ম্যাচ জিতে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, এক রাতেই তাতে বড়সড় ধাক্কা। আক্রমণে গোলের সুযোগ নষ্ট করার পুরনো রোগ তো ছিলই, এ বার রক্ষণও যে কতটা দুর্বল, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল চেন্নাই।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করে চেন্নাইয়িন। খেলা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রথম গোল। মাদিহ তালালের পাস ধরে ইরফান ইয়াদওয়াদ বক্সে বল বাড়ান। বাঁ দিকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ব্রাইসন ফের্নান্দেস সহজেই বল জালে ঠেলে দেন। লালচুংনুঙ্গার মার্কিংয়ের ব্যর্থতা তখনই প্রকাশ্যে। ১৭ মিনিটে আবার সেই ব্রাইসন। তালালের পাস ধরে ডান দিক থেকে ভিতরে ঢুকে বাঁকানো শটে গোল করেন তিনি। প্রভসুখন গিল ঝাঁপিয়েও গোল বাঁচাতে পারেননি।
২৯ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ইস্টবেঙ্গল। চেন্নাইয়ের রক্ষণ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দানি রামিরেজ বক্সে পাস দেন আকে লোবাকে। ঘুরে দাঁড়িয়ে দুরন্ত শটে গোল করেন লোবা। কিন্তু গোল শোধ করেও রক্ষণের গলদ ঢাকতে পারেনি লাল-হলুদ। ৪১ মিনিটে বক্সে ব্রাইসনকে ফাউল করেন জিকসন সিংহ। পেনাল্টি থেকে গোল করে চেন্নাইয়িনকে ৩-১ এগিয়ে দেন রামন আন্দ্রাদ।
বিরতির পরে বিষ্ণু ও বিপিনকে তুলে এডমুন্ড লালরিনডিকা এবং রোহিত দানুকে নামান হাবাস। ৫৮ মিনিটে মহম্মদ সাহিফের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান রামিরেজ। কিন্তু তার পরেই ফের বিপর্যয়। রিয়াতার শট ইরফান ইয়াদওয়াদের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। অফসাইডের দাবি জানালেও লাভ হয়নি। চেন্নাইয়ের চতুর্থ গোল।
এর পর লোবা ও লালচুংনুঙ্গাকে তুলে ডেভিড লালানসাঙ্গা এবং হার্দিক ভাটকে নামান হাবাস। কিন্তু রক্ষণে ফাঁক বন্ধ হয়নি। প্রতি আক্রমণে রামন আন্দ্রাদের নিখুঁত পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইরফান। চেন্নাইয়ের পঞ্চম গোলের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের হারও নিশ্চিত হয়ে যায়।
আনোয়ার আলির অনুপস্থিতি অবশ্যই বড় ধাক্কা। কিন্তু শুধু একজন ফুটবলারের অভাবকে এই হারের কারণ বলা যাবে না। সন্দীপ মান্ডির ব্যর্থতা, লালচুংনুঙ্গার পজিশনিংয়ের সমস্যা এবং বিপক্ষকে মার্ক করতে না পারার প্রবণতা ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে অসহায় করে দিয়েছে। মোহনবাগানের উৎসবের রাতে লাল-হলুদ শিবিরে তাই পাঁচ গোলের যন্ত্রণা। হাবাসের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রক্ষণকে নতুন করে গুছিয়ে তোলা।




