স্পোর্টস ডেস্ক: পাঁচ বছরের সম্পর্কের অবশেষে ইতি। কোচ ড্যারেন কাহিলের সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করলেন জ্যানিক সিনার। ২০২৬ মরসুম শেষ হলেই অস্ট্রেলীয় কোচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হবে। তাঁর জায়গায় ২০২৭ মরসুম থেকে সিনারের কোচিং দলের দায়িত্বে যোগ দেবেন সুইডেনের ম্যাগনাস নরমান। তবে সিনারের সঙ্গে থাকবেন তাঁর আর এক কোচ সিমোনে ভাগনোজি।
২০২২ সালের জুনে সিনারের কোচিং দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন কাহিল। তাঁর প্রশিক্ষণে টেনিস দুনিয়ায় একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন ইতালীয় তারকা। বিশ্বের এক নম্বর স্থান দখল করার পাশাপাশি জিতেছেন পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফরাসি ওপেন, ইউএস ওপেন এবং উইম্বলডনের মঞ্চে সাফল্যের পিছনে কাহিলের অবদান ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
কাহিলকে বিদায় জানিয়ে সিনার বলেন, ‘আমার যাত্রাপথে ড্যারেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমার উপর বিশ্বাস রাখা, সততা এবং নিষ্ঠার জন্য ওঁকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একজন খেলোয়াড় হিসাবে তো বটেই, মানুষ হিসাবেও আমাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছেন তিনি। ওঁর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার কেরিয়ারের বাকি সময়েও সঙ্গে থাকবে।’
সিনার আরও বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমরা অনেক বিশেষ মুহূর্ত একসঙ্গে কাটিয়েছি। আমাদের কোচিং সম্পর্ক শেষ হলেও বন্ধুত্ব অটুট থাকবে।’
অন্য দিকে, সিনারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন কাহিলও। তাঁর কথায়, ‘জ্যানিকের সঙ্গে কাজ করাটা আমার কাছে অত্যন্ত সম্মান ও আনন্দের। ও অসাধারণ একজন মানুষ। বিনয়ী, পরিশ্রমী এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য। আমরা ওর জন্য গর্বিত।’
২০২৫ মরসুমের পরেই কোচিং থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা ছিল ৬১ বছরের কাহিলের। কিন্তু সিনারের অনুরোধে আরও এক বছর কাজ চালিয়ে যান তিনি। এ বার সেই সম্পর্ক শেষ হচ্ছে। নতুন কোচ নরমানেরও রয়েছে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা। বিশ্বের প্রাক্তন দু’নম্বর এই সুইডিশ কোচ স্টান ওয়ারিঙ্কাকে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে সাহায্য করেছিলেন। এর আগে রবিন সোডারলিংয়ের কোচ হিসাবেও সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
এ দিকে, হাঁটুর চোটের কারণে উইম্বলডনে শেষ ম্যাচ খেলার পর থেকে কোর্টের বাইরে রয়েছেন সিনার। চোটের জন্য ইউএস ওপেন থেকেও সরে দাঁড়াতে হয়েছিল তাঁকে। ২০২৬ মরসুমে আর কোনও প্রতিযোগিতায় খেলবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন ইতালীয় তারকা। ফলে নতুন কোচের সঙ্গে ২০২৭ মরসুমে নতুন ভাবে শুরু করাই এখন তাঁর লক্ষ্য।
সিনারের কেরিয়ারে কাহিলের অবদান যে ভোলার নয়, বিদায়বার্তাতেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইতালীয় তারকা। এ বার নতুন কোচের অধীনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।




