নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন নজির গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রিয়া সুন্দরেশন। অ্যারিজোনা সেনেটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৪২ বছর বয়সি এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী। গত ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথম অ্যারিজোনার আইনসভা এবং গভর্নরের পদ, তিন ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
তিন বারের সেনেট সদস্য প্রিয়া এত দিন অ্যারিজোনা সেনেটের বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলেছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে তিনি বলেন, ‘আপনি যেখানেই থাকুন, যে দলকেই ভোট দিয়ে থাকুন না কেন, আমরা আপনাদের জন্য কাজ করতে এখানে এসেছি।’
প্রিয়ার কথায়, ‘ভোটদাতারা ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দরজা খুলে দিয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব হল, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনেও সেই পরিবর্তনের প্রভাব পৌঁছে দেওয়া। এ বার কাজে নেমে পড়ার সময়।’
অ্যারিজোনার রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের এই উত্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রিয়া আরও বলেন, ‘এটি সেই ম্যাগা চরমপন্থার বিরুদ্ধে ভোটদাতাদের প্রত্যাখ্যান, যা রিপাবলিকানরা নিজেদের রাজ্যে এত দিন ধরে তুলে ধরেছেন।’
অ্যারিজোনার টুসনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম প্রিয়ার। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত আইন পড়িয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের পক্ষেও কাজ করেছেন তিনি। পরিবেশ সংক্রান্ত সংগঠন এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। অ্যারিজোনা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে ভোটদাতাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নির্বাচনী কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত কাজেও নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রিয়া।
২০০৬ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন তিনি। পরে ২০১১ সালে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন এবং অর্থনীতির মতো আলাদা তিনটি বিষয়ে শিক্ষিত প্রিয়া রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির পক্ষপাতী। তাঁর এই শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পরিবেশ ও ভোটাধিকার সংক্রান্ত কাজই রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।




