নিউজ ডেস্ক: ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয় ঘিরে উত্তাল প্যারাগুয়ে। পরিস্থিতির দায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের পদ খোয়াতে হল সান্তিয়াগো পেনাকে। শুধু পদচ্যুতিই নয়, ইমপিচমেন্টের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপাতত গৃহবন্দি রয়েছেন তিনি। প্যারাগুয়ের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের সঞ্চয় যে ব্যাঙ্কে গচ্ছিত ছিল, সেই ‘উয়েনো ব্যাঙ্ক’ আচমকা ধসে পড়ায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল জনরোষ।
গত মঙ্গলবার ভোরে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আর্থিক সক্ষমতার ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে উয়েনো ব্যাঙ্ককে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনে। এর ফলে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট কার্যত অচল হয়ে যায়। নিজেদের গচ্ছিত টাকা তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েন লক্ষ লক্ষ মানুষ। শুরু হয় বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।
এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন পেনা। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার উপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’ কিন্তু তাঁর পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বিরোধীদের পাশাপাশি নিজের দলের আইনপ্রণেতারাও তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন। শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে পদ থেকে সরানোর পক্ষে ভোট পড়ে। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুক্রবার স্থানীয় সময়ে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
পেনার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উয়েনো ব্যাঙ্কের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক যোগসূত্র ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে তিনি স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পেনশনভোগীদের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ব্যাঙ্কে পেনার নিজস্ব শেয়ার ছিল বলেও জানা গিয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।




