নিউজ ডেস্ক: ভারত নয়, পাকিস্তানও নয়। বাংলাদেশের স্বার্থই সবার আগে। ক্ষমতায় আসার প্রায় ন'মাস পরেও নিজের সরকারের বিদেশনীতি নিয়ে সেই অবস্থানই স্পষ্ট করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার ঢাকায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে তাঁর সাফ বার্তা, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি (রাওয়ালপিন্ডি) নয়, অন্য কেউও নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিদেশি শক্তির কাছে বাংলাদেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।
শনিবার ঢাকার বনানীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তারেক। সেখানে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে অতীতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর কথায়, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালের লড়াই ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।’
তারেকের বক্তব্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেনা ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলেন। সেই দিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া কিংবা বাংলাদেশকে অন্য কোনও রাষ্ট্রের অধীনস্থ করে তোলার চেষ্টা আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ছাত্র-জনতা একজোট হয়ে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ। এই ঘটনাগুলির প্রত্যেকটিই প্রমাণ করেছে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বাংলাদেশের মানুষ আপস করতে রাজি নন।
উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রচারেও ভারত ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন তারেক। তাঁর দল বিএনপি ক্ষমতায় এলে কোনও একটি দেশের উপর নির্ভরশীল না হয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী বিদেশনীতি পরিচালিত হবে বলে বারবার জানিয়েছিলেন তিনি। ক্ষমতায় আসার ন'মাস পরেও সেই অবস্থান থেকে সরেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তবে তারেকের শনিবারের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের তরুণদের একাংশের মধ্যে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান শোনা গিয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যে তরুণেরা রাজনীতির ময়দানে উঠে এসেছেন, তাঁদের কয়েক জন বিএনপি সরকারকেও আক্রমণ করেছেন। এমনকি তারেকের দলকে ‘নব্য স্বৈরাচারী’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশের থেকেই সমদূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দিয়ে তারেক নিজের সরকারের অবস্থান ফের স্পষ্ট করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার বাংলাদেশের মানুষেরই। কোনও দেশ বা বিদেশি শক্তি যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে, সেটাই তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার।




