নিউজ ডেস্ক: সাতসকালে বাজারি গুঞ্জনের মাঝেই চোখ আটকে গিয়েছিল আকাশের দিকে। মোবাইল টাওয়ারের ঠিক চূড়ায় ঝুলছে একটা মানুষ। প্রথমে কেউ ভেবেছিলেন মেরামতির লোক, কেউ বা ভেবেছিলেন পাখি তাড়াতে উঠেছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুল ভাঙল। জানা গেল, কোনো বিপদের আশঙ্কা নয়,প্রেমিকাকে ঘরে তোলার জেদেই সেখানে চড়ে বসেছেন এক যুবক। কালীপুজোর সকালে নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া বাজারের এই দৃশ্য এক লহমায় মনে করিয়ে দিল বহু বছর আগের হিন্দি সিনেমার সেই বিখ্যাত দৃশ্যকে যেখানে জলের ট্যাঙ্কের ওপর দাঁড়িয়ে ‘বীরু’ হাঁক ছেড়েছিলেন বাসন্তীকে পাওয়ার আশায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, টাওয়ারে চড়া ওই যুবকের নাম শোভন মণ্ডল। তিনি সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গাংড়া গ্রামের বাসিন্দা, পিতা দিলীপ মণ্ডল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে, আনুমানিক দুটো নাগাদ যখন গোটা এলাকা উৎসবের আগের ক্লান্তিতে ঘুমোচ্ছিল, তখনই অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে সোনাচূড়া বাজারের মোবাইল টাওয়ারটিতে তরতরিয়ে উঠে পড়েন শোভন।
রবিবার ভোরের আলো ফুটতেই বাজারের কয়েকজন পথচারী ও স্থানীয় দোকানদার দেখতে পান, টাওয়ারের লোহার খাঁচায় বিপজ্জনকভাবে বসে রয়েছেন ওই যুবক। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে খবর। উৎসবের ভিড়কে ছাপিয়ে টাওয়ারের নিচে জমে যায় শয়ে শয়ে কৌতূহলী মানুষের মেলা। স্থানীয়রা জানান, এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক শোভনের। কিন্তু সেই প্রণয় পরিণতি পাওয়া নিয়ে পরিবার বা পরিস্থিতিগত কোনো টানাপোড়েন চলছিল। আর সেই কারণেই ‘চরম পদক্ষেপ’ হিসেবে এই টাওয়ারকেই নিজের দাবি আদায়ের মঞ্চ বানিয়ে ফেলেন তিনি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ। হাতজোড় করে, মাইকিং করে তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা! উপর থেকে সাফ বার্তা ভেসে আসে প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ের পাকা কথা না দিলে তিনি এক পা-ও নিচে নামবেন না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তলব করা হয় দমকল বাহিনীকে।
ঘড়ির কাঁটা যত এগিয়েছে, নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের উদ্বেগের পারদ তত চড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় ঘটে যেতে পারত বড়সড় দুর্ঘটনা। পুলিশ, দমকল কর্মী এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ মানুষ দীর্ঘক্ষণ ধরে যুবকের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালান। আশ্বাস, ভরসা এবং মান-অভিমানের নানা পর্ব পেরিয়ে অবশেষে দুপুর দুটো নাগাদ বরফ গলে। টানা প্রায় ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর নাটকের পর দমকলের কর্মীদের তৎপরতায় শোভনকে অক্ষত অবস্থায় নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। যুবক নিচে নামতেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকরা।




