নিউজ ডেস্ক: এবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার, কালীপুজোর দিন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ ক্যাম্পে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাঁদের মিষ্টিমুখ করান তিনি। এদিন হিঙ্গলগঞ্জ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'সীমান্তে ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আগামী ২০২৭ সাল থেকে জওয়ানদের ‘সীমামিত্র সম্মান’ প্রদান করবে রাজ্য সরকার।'
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। মঞ্চ থেকেই আগের সরকারের কৃতকার্যের জন্যে ক্ষমাও চান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,'আগের সরকার বিএসএফের সঙ্গে যে অভব্য আচরণ করেছেন তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। গণতন্ত্রে মানুষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। তা মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে।' শুভেন্দুর অভিযোগ, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে আগের সরকার সহযোগিতা করেনি। এমনকি বিএসএফের উদ্দেশে অসম্মানজনক ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দু আরও জানান, সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ, এসএসবি এবং রাজ্য পুলিশের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে ২০২৭ সাল থেকে চালু হবে ‘সীমামিত্র সম্মান’। সীমান্তরক্ষার কাজে যাঁরা বিশেষ অবদান রাখবেন, তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো উন্নয়ন, অনুপ্রবেশ রোধ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সমন্বয় বাড়ানোর উপরেও জোর দেন তিনি। পাশাপাশি আশ্বাস দেন, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আগামী দিনেও প্রয়োজনীয় জমি দেবে রাজ্য সরকার। স্বামী বিবেকানন্দের বাণীও স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা স্বামী বিবেকানন্দের মাটি। বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি’ মন্ত্রের উল্লেখ করে অতীতের ভুল-ত্রুটি পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।
অন্যদিকে, আজ ছত্তিশগড়ের বস্তারে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নকশাল দমনে নিরাপত্তাবাহিনীর ভূমিকা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তিনি। সেখানে উপস্থিত জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান নরেন্দ্র মোদী। নিরাপত্তারক্ষীদের নিজের পরিবারের সদস্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, '২০১৪ সালের পর থেকে দেশে মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। চার-পাঁচ দশকের দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশ আজ সম্পূর্ণভাবে নকশালবাদ ও মাওবাদী আতঙ্ক থেকে মুক্ত হয়েছে। তাই এই বছরের দীপাবলি সত্যিই বিশেষ।




