নিউজ ডেস্ক:ওয়াশিংটনের ক্ষমতার অলিন্দে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করতে ঠিক কতটা অর্থ খরচ করা হয়েছে? মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কোন কোন সংস্থার সাহায্য নেওয়া হয়েছে? সম্প্রতি আমেরিকার সরকারি নথি প্রকাশ্যে আসতেই এই সমস্ত প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মুখ খুলছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও। তাঁদের দাবি, প্রকাশিত তথ্যের কিছু অংশ বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আমেরিকার 'ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট'-এর অধীনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে একাধিক লবিং সংস্থাকে নিয়োগ করেছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেমস মিলারের সংস্থা 'এসএইচডব্লিউ পার্টনার্স '। এই সংস্থার সঙ্গে মাসে দেড় লক্ষ্য ডলারের চুক্তি হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ লক্ষ ডলার।
পাশাপাশি, 'মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স' নামে আরও একটি সংস্থাকে মাসিক ৭৫ হাজার ডলার দেওয়ার চুক্তি করা হয়েছিল। এই সংস্থাটি ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে পরিচিত। নথি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের আধিকারিক, কংগ্রেস সদস্য, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সরকার, থিংক ট্যাঙ্ক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ছিল এই সংস্থাগুলির কাজের অন্যতম অংশ। ভারতের নীতি ও অবস্থান তুলে ধরা এবং কৌশলগত যোগাযোগ বজায় রাখার দায়িত্বও ছিল তাঁদের ওপর।
তবে, জেমস মিলারের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। 2026 সালের এপ্রিল মাসে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হলেও, ২৩ জুন ট্রাম্প প্রশাসনে বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাঁর সংস্থার সঙ্গে চুক্তি শেষ করা হয়।
এদিকে, এই বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের বক্তব্য, আমেরিকায় ভারতীয় দূতাবাসের লবিং সংস্থা নিয়োগের প্রথা নতুন নয়। ১৯৪৮ সাল থেকে এই ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। 'মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স'-এর ভূমিকা নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে MEA। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্রাম্পের দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে সংস্থাটি যুক্ত ছিল। নীতিগত সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে নয়। ফলে, বিপুল অর্থের এই চুক্তি ঘিরে প্রশ্ন উঠলেও, ভারত সরকারের বক্তব্যে বিতর্কের অন্য দিকটিও সামনে এসেছে।




