নয়াদিল্লি: দীপাবলিতে পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটাতে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বিমানের টিকিটের দাম দেখে শেষ পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট কাটেন এক সংস্থার সিইও। ভেবেছিলেন, খরচও বাঁচবে, আবার ২ বছরের মেয়েও প্রথমবার ট্রেন সফরের অভিজ্ঞতা পাবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠল। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ ঘণ্টা দেরিতে চলল ট্রেন। গন্তব্যে পৌঁছনোর অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় আটকে থেকে ভারতীয় রেলের পরিষেবা নিয়ে সরব হলেন বৈভব জৈন নামে ওই সিইও। সমাজমাধ্যমে তাঁর ক্ষোভের পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বৈভব জৈন ক্যাপিটাল কুইল এবং বৈভব জৈন ক্লাসেসের প্রতিষ্ঠাতা। দীপাবলি উপলক্ষে ইন্দোর থেকে লখনউয়ে নিজের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। প্রথমে বিমানে যাওয়ার কথা ভাবলেও উৎসবের মরসুমে বিমানভাড়ার বিপুল অঙ্ক দেখে বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত মহাকাল এক্সপ্রেসের (২০৪১৪) টিকিট কাটেন। গাড়িতে যাওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু ২ বছরের মেয়েকে ট্রেন সফরের অভিজ্ঞতা দেওয়ার কথা ভেবেই রেলপথ বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা।
কিন্তু যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিপত্তি। এক্স হ্যান্ডলে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বৈভব লেখেন, তাঁদের ট্রেন প্রায় ৭.৫ ঘণ্টা দেরিতে চলছে। তখনও গন্তব্যে পৌঁছনো বাকি। সাধারণত যে যাত্রা শেষ হতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা লাগার কথা, তার সঙ্গে আরও কয়েক ঘণ্টার বিলম্ব যুক্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সময়ে ৮ ঘণ্টার বিলম্ব কোনওভাবেই ছোট বিষয় নয়। বিমান সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চাইলে রেলের পরিষেবার মান এবং সময়ানুবর্তিতার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি রেল মন্ত্রককেও পোস্টে ট্যাগ করেন। তাঁর প্রশ্ন, এত দীর্ঘ বিলম্বের মধ্যে দিয়ে যাত্রীদের কীভাবে বিমানের বিকল্প হিসেবে রেলকে বেছে নিতে উৎসাহিত করা সম্ভব? শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বৈভবের পোস্ট সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। কেউ রেলের সময়ানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ আবার ট্রেন চলাচলে বিলম্বের পিছনে রেলপথের অতিরিক্ত চাপকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। এক ব্যবহারকারীর বক্তব্য, যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রেলপথে যানজট তৈরি হচ্ছে। সেই চাপ সামলাতে একাধিক রেলপথকে দ্বিগুণ, তিনগুণ ও চারগুণ করার কাজ চলছে। তবে সেই পরিকাঠামো তৈরি হতে সময় লাগবে।
অন্য এক ব্যবহারকারী বৈভবকেই পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, ৮ নভেম্বর দীপাবলি জেনেও কেন তিনি আগে থেকে বিমানের টিকিট কাটেননি? আবার কেউ কেউ রেলের পরিষেবার মান এবং যাত্রীদের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এক যাত্রী জানিয়েছেন, তিনিও একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। লখনউ জংশন থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে তাঁর ট্রেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
উৎসবের মরসুমে পরিবহণের চাপ
দীপাবলি, দুর্গাপুজো কিংবা ছটপুজোর মতো উৎসবের সময়ে দেশের এক শহর থেকে অন্য শহরে যাত্রী চলাচল অনেকটাই বেড়ে যায়। কর্মসূত্রে অন্য শহরে থাকা মানুষ বাড়ি ফেরেন, পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটাতে দূরপাল্লার যাত্রা করেন বহু মানুষ। ফলে ট্রেন ও বিমানের টিকিটের চাহিদা একসঙ্গে বাড়ে। এই সুযোগে বিমানভাড়াও অনেক সময় সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায়। ফলে তুলনামূলক সস্তা বিকল্প হিসেবে রেলের উপর নির্ভর করেন বহু যাত্রী।
কিন্তু ট্রেনের দীর্ঘ বিলম্ব সেই বিকল্পের সুবিধাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ যাত্রীদের নিয়ে যাঁরা সফর করেন, তাঁদের কাছে কয়েক ঘণ্টার অতিরিক্ত অপেক্ষা শুধু সময় নষ্ট নয়, বড় ধরনের ভোগান্তিরও কারণ হতে পারে। বৈভব জৈনের অভিজ্ঞতা সেই পুরনো প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে—বিমানভাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলকে শুধু সস্তা পরিবহণ হিসেবে নয়, সময়ানুবর্তী ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা হিসেবেও নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।




