নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরকে ঘিরে ২০০৮ সালের বিতর্কিত ঘটনা যেন এখনও পিছু ছাড়ছে না। অভিনেতা নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর সেই অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল বলিউড। নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন তনুশ্রী। সেখানে নানা পাটেকরকে ইঙ্গিত করে তাঁকে ‘এভিল ডেড’ (Evil Dead) বা ‘শয়তান’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
এরপর ফের সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে তনুশ্রী বলেন, “আমি সজ্ঞানেই ওঁকে শয়তান বলেছি। ওঁর মৃত্যু হয়েছে মানেই এই নয় যে, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা ভুলে যেতে হবে। উনি মরতে মরতেও আমাকে বিরক্ত করে গেলেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে আমাকে। উনি একজন স্যাডিস্ট, অসুস্থ এবং সাইকোপ্যাথ। অন্তত একজন শয়তান তো মারা গেল, এটাই আমার শান্তি।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ়’ ছবির একটি গানের শুটিং চলাকালীন এই ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন তনুশ্রী। তাঁর দাবি ছিল, ওই গানে নানা পাটেকরের থাকার কথা ছিল না। কিন্তু শুটিং সেটে এসে তিনি তনুশ্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। নাচ শেখানোর অজুহাতে নানা পাটেকর তাঁর হাত ধরে টানেন, ধাক্কা দেন এবং অনভিপ্রেতভাবে তাঁর শরীর স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী।
https://www.facebook.com/share/v/1CPBc7jy4M/
এই ঘটনার পর শুটিং ছেড়ে মেকআপ রুমে চলে যান তনুশ্রী। তাঁর বাবা-মা তাঁকে নিতে এলে তিনি গাড়িতে করে স্টুডিয়ো থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন। সেই সময় একদল লোক তাঁর গাড়ি ঘিরে হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। তনুশ্রীর দাবি ছিল, ওই হামলার সঙ্গে নানা পাটেকরের ঘনিষ্ঠদের যোগ ছিল। তবে ২০০৮ সালে পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে মূলত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটিই নথিভুক্ত হয়েছিল; যৌন হেনস্থার অভিযোগ সেখানে ছিল না।
এর প্রায় দশ বছর পরে, ২০১৮ সালে, তনুশ্রী বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। এর পরেই ভারতে যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে #MeToo আন্দোলনে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। বলিউডের বহু পরিচিত ব্যক্তিত্বকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়।
অন্যদিকে, নানা পাটেকর শুরু থেকেই তনুশ্রীর অভিযোগ অস্বীকার করে আসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, “যৌন হেনস্থা বলতে কী বোঝাচ্ছেন? সেখানে ৫০ থেকে ১০০ জন মানুষ ছিল।” পরে নানা পাটেকরের তরফে তনুশ্রীকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল।
এই ঘটনায় নানা পাটেকর ছাড়াও নৃত্য পরিচালক গণেশ আচার্যের নাম উঠে এসেছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ এবং ৫০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে মুম্বইয়ের আন্ধেরি আদালত মামলাটির নিষ্পত্তি করে। আদালত জানায়, ২০০৮ সালের ঘটনার প্রায় দশ বছর পরে দায়ের হওয়ায় মামলাটি আইননির্ধারিত সময়সীমার বাইরে ছিল।
অর্থাৎ, অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি আদালত। নানা পাটেকরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি, আবার তনুশ্রীর অভিযোগও আদালতে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মামলাটির নিষ্পত্তি এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিচারিক সিদ্ধান্ত, এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি।
তনুশ্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে যেমন অনেকে সরব হয়েছেন, তেমনই মন্তব্যের ভাষা নিয়ে সমালোচনাও করেছেন অনেকে। পুরনো #MeToo বিতর্ক এভাবেই আবারও উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে।
