কমনওয়েলথ গেমসে অস্মিতা দে-র হাত ধরে নয়া ইতিহাস গড়েছে ভারত। মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো ইভেন্টে সোনা জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় জুডোকা হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন ত্রিপুরার ২৩ বছরের তরুণী। মেয়ের এই সাফল্যের পর সমাজ মাধ্যমে এসে একটি বার্তা দিলেন অস্মিতার মা মুন্না পাতারি দে। অন্যদিকে অস্মিতা নিজে জানিয়েছেন, ভগবান শিবের বিভিন্ন ভক্তিমূলক গান শোনেন তিন। আর এভাবেই নিজেকে চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করেন।
শুক্রবারের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন শিবভক্ত অস্মিতা। নির্ধারিত সময়ে ফলাফল ১-১ থাকায় ম্যাচ গড়ায় 'গোল্ডেন স্কোর'-এ। সেখানেই দুর্দান্ত আক্রমণে একটি ইউকো আদায় করে ঐতিহাসিক জয় তথা স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন অস্মিতা। এর পরই নিজের সাফল্যের নেপথ্যে আরাধ্য ঈশ্বরের আশীর্বাদের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জানান, ফাইনালে নামার আগে দেবাদিদেব মহাদেবকে নিয়ে বিভিন্ন ভক্তিমূলক গান শুনেছিলেন।
অন্যদিকে শনিবার সকালে সমাজ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন অস্মিতার মা। তিনি জানান, মেয়ের এই সাফল্যে মা হিসেবে তিনি অত্যন্ত খুশি এবং সেইসঙ্গে গর্ববোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও করেছেন তিনি। বলেন, অস্মিতার সাফল্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি। পাশাপাশি ত্রিপুরা তথা গোটা দেশের মানুষও যে অস্মিতার সাফল্যে খুশি, সে কথাও জানাতে ভোলেননি মা মুন্না পাতারি দে।
দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার বাসিন্দা অস্মিতা দে'র সাফল্যের পথ সহজ ছিল না একেবারেই। বাবা সাইকেল মেকানিক। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেই নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গিয়েছেন অস্মিতা। শুক্রবার ফাইনালেও কঠিন লড়াই লড়তে হয়েছে তাঁকে। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও স্কোর ১-১ করেন তিনি। এর পর 'গোল্ডেন স্কোর'-এ। চাপের মুখে অবিশ্বাস্য সংযম রেখে শেষ পর্যন্ত জয়সূচক ইউকো আদায় করে সোনা নিশ্চিত করেছেন অস্মিতা।