স্পোর্টস ডেস্ক: টেনিস কোর্টে শুরু পালাবদলের দিন। ৮,৭৩৬ দিন, অর্থাৎ প্রায় ২৪ বছর মাস পর প্রথম বার এটিপি-র সেরা দশে নেই ‘বিগ থ্রি’-র কেউই। ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডে মারিয়ানো নাভোনের কাছে হারের জেরে সদ্য প্রকাশিত এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বরে নেমে গিয়েছেন নোভাক জকোভিচ। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটে গেল তিন মহাতারকা যথাক্রমে রজার ফেডেরার, রাফায়েল নাদাল এবং জকোভিচের আধিপত্য-অধ্যায়ের। ২০০২ সালের অক্টোবর মাসের পর এই প্রথম ঘটল এমন ঘটনা।
ইউএস ওপেনে নাভোনের কাছে জোকারের হারটাও ছিল বেশ বড় একটা ধাক্কা। ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষের কাছে ৭-৬ (৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ ব্যবধানে হেরে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেন ৩৯ বছরের সার্বিয়ান তারকা। গ্র্যান্ড স্ল্যামে এর আগে এত তাড়াতাড়ি তাঁকে হারতে দেখা গিয়েছিল সেই ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। ঠিক দুই দশক পর ফের কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামে প্রথম ম্যাচেই বিদায় ঘটে জকোভিচের। সেই ধাক্কারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে র্যাঙ্কিংয়ে।
২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো এটিপি-র সেরা দশে ঢুকে পড়েছিলেন জকোভিচ। এর পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে কনুইয়ের চোটের কারণে টপ ১০ থেকে ছিটকে গেলেও পরের বছরই দ্রুত ফিরে আসেন উইম্বলডন জিতে। এর পর বছরের পর বছর ধরে ফেডেরার, নাদাল ও জকোভিচের মধ্যে অন্তত একজন সেরা দশে ছিলেনই। তিনজন মিলে জিতেছেন ৬৬টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। জকোভিচ ২৪টি, নাদাল ২২টি এবং ফেডেরার ২০টি। সেই অবিশ্বাস্য আধিপত্যই প্রায় এক-চতুর্থাংশ শতাব্দী ধরে নিয়ন্ত্রণ করেছে পুরুষদের টেনিসকে।
সেই যুগ শেষ হল এ বার। ফেডেরার ২০২২ সালে লেভার কাপের পরই অবসর নিয়ে নেন। নাদাল আরও দু’বছর খেলে ২০২৪ সালের ডেভিস কাপে শেষ বার কোর্টে নামেন। জকোভিচ অবশ্য এখনও খেলা চালিয়ে যেতে চান। সাম্প্রতিক সময়ে শরীর বার বার বাধা হয়ে দাঁড়ালেও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক পর্যন্ত খেলার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এ দিকে নতুন প্রজন্মের লড়াইয়ে ইউএস ওপেনজয়ী আলেকজান্ডার জভেরেভ দ্বিতীয় স্থান আরও শক্ত করেছেন। শীর্ষে রয়েছেন ইয়ানিক সিনার। আর তৃতীয় বাছাই হলেন কার্লোস আলকারাজ। বিগ থ্রি-র ছায়া সরে যাওয়ার পর পুরুষ টেনিসে এ বার নতুন আধিপত্যের অপেক্ষা।




