স্পোর্টস বেটিং: আইপিএল ২০২৭-এর আগে কোচিং বিভাগে আমূল বদল আনছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। দলের প্রধান কোচ কায়রন পোলার্ডের নেতৃত্বে নতুন সাজে তৈরি হচ্ছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের কোচিং দল। শুক্রবার ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার রবিন উথাপ্পা। ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পেলেন টি দিলীপ। পাশাপাশি বোলিং কোচ হিসেবে যোগ দিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান।
প্রধান কোচের পদ থেকে মাহেলা জয়বর্ধনে সরে দাঁড়ানোর পর পোলার্ডকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অধীনে এবার নতুন করে সাজানো হল দলের সহায়ক কর্মীদের তালিকা। উথাপ্পার নিয়োগে মুম্বইয়ের ব্যাটিং কোচের শূন্যস্থানও পূরণ হল। এর আগে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলাতেন পোলার্ড। তাঁকে প্রধান কোচ করা হওয়ায় সেই পদটি ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল।
উথাপ্পার কাছে এই দায়িত্ব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আইপিএলে এই প্রথম কোনও দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব পেলেন তিনি। তবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রথম মরশুমে এই দলের হয়েই খেলেছিলেন উথাপ্পা। ১৪টি ম্যাচে করেছিলেন ৩২০ রান। পরে চেন্নাই সুপার কিংস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়েও আইপিএলে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন উথাপ্পা।
বোলিং কোচ ম্যাকক্লেনাঘানও মুম্বইয়ের পরিচিত মুখ। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। মুম্বইয়ের চারটি আইপিএল খেতাব জয়ের পিছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ এবং ২০২০—এই চার মরশুমেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মুম্বই।
ফিল্ডিং বিভাগের দায়িত্ব সামলাবেন টি দিলীপ। আর ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ মুখ ধবল কুলকার্নি হবেন উন্নয়নমূলক বোলিং কোচ। মুম্বইয়ের হয়ে ২০১৩ এবং ২০২০ সালে আইপিএল জিতেছেন ধবল। তরুণ ভারতীয় বোলারদের তৈরি করাই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ। সারা বছর দলের সঙ্গে থেকে বোলারদের উন্নতি এবং প্রতিভার ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব থাকবে তাঁর উপর।
গত ৬ বছর আইপিএল খেতাব জিততে পারেনি মুম্বই। ২০২৪ সালে লিগ তালিকার একেবারে নীচে শেষ করেছিল তারা। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত পৌঁছলেও ২০২৬ সালে ফের হতাশ হতে হয় দলকে। ১০ দলের প্রতিযোগিতায় নবম স্থানে শেষ করেছিল মুম্বই। সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে নতুন মরশুমে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন পোলার্ডের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন কোচিং দল সেই লক্ষ্যে কতটা সাফল্য এনে দিতে পারে, তা দেখার অপেক্ষা।




