কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতিকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্দ্রনীলকে নিশানা করে বলেন, ‘এরা রাজনীতি করতে আসেনি, ব্যবসা করতে এসেছিল।’ শুধু তাই নয়, গত পাঁচ বছরে ইন্দ্রনীল সেন কারও কথা শুনতেন না বলেও দাবি করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের অন্দরেও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা সততার সঙ্গে রাজনীতি করছেন, তাঁদের কাছেও এই ধরনের ঘটনা অস্বস্তিকর। কিছু মানুষ আছে, যাঁরা ক্ষমতাকে ভালোবাসে। এখন রাজনীতিতে এই দলের লোকই বেশি। আমরা দলকে ভালবেসে, মমতাকে বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালবেসে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। কল্যাণের মতে, 'এরা কেউ রাজনীতি করতে আসেন নি, আসেন ব্যবসা করতে।
এরপরেই কাজল শেখের প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণ দাবি করেন, 'গতকাল কাজল শেখে দিদির সঙ্গে আছি বলেছেন বলেন, তাঁর সিকিউরিটি তুলে নেওয়া হয়েছে।' দলের মধ্যে কারা গুরুত্ব পাবেন, তা অনেক সময় দল নেত্রীর ঘনিষ্ঠতার উপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা অনেকেই যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। তৃণমূল সাংসদের দাবি, 'দিদির আশীর্বাদে ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, এরা সবাই নায়ক। আমরা তো ভিলেন হয়েই রয়ে গিয়েছি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একা দায়ী করলে হবে না। আরও অনেকে পরপর আছে। আমি মনে করি, একটা রাজনৈতিক দলের ৫ থেকে ১০ বছরের বেশি থাকা ক্ষমতায় উচিত নয়। কারণ অতি ক্ষমতাই দুর্নীতির মূল কারণ।'
গত ২৮ অক্টোবর ইউনেসকোর লোগো ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার পুজোর পাস বিলি মামলায় সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর বাইরে অপেক্ষারত ছিলেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও বিধাননগর কমিশনারেটের আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি দফতর থেকেই গ্রেফতার হন ইন্দ্রনীল সেন। লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
তৃণমূল আমলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মন্ত্রী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে চড়া দামে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি করতেন তিনি। দুর্গাপুজোর 'প্রিভিউ শো' সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানোর তথ্য পেয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর। জানা গিয়েছে,মাস আর্ট নামে ওই সংস্থাটি ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের ৷ ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি’ টিকিট বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ।




