কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: এবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে মমতার যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা ছিল। দুর্নীতির টাকার অংশ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোগ করেছেন বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, এই মামলায় আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন,'ওঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। তদন্ত চলছে। ইডি, পুলিশ সকলেই তদন্ত করছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এটা হয়েছে। ওঁরও ভাগ থেকে থাকতে পারে। উনি একা তো খাননি। খাইয়ে খেয়েছেন। ওঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন। একসঙ্গে গান করতেন। শেষ গানটাও আমরা শুনেছি, ডুয়েট গান। আমার যাওয়ার সময় হল, দাও বিদায়।' তারপরেই গান করেন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'যা পরিণতি হওয়ার হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট। এখনও ব্রেকফাস্ট হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের সব জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।'
প্রসঙ্গত, ইউনেসকোর লোগো ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ। এবার গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার পুজোর পাস বিলি মামলায় সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর বাইরে অপেক্ষারত ছিলেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও বিধাননগর কমিশনারেটের আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি দফতর থেকেই গ্রেফতার হন ইন্দ্রনীল সেন। লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
তৃণমূল আমলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মন্ত্রী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে চড়া দামে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি করতেন তিনি। দুর্গাপুজোর 'প্রিভিউ শো' সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানোর তথ্য পেয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর। জানা গিয়েছে,মাস আর্ট নামে ওই সংস্থাটি ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের ৷ ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি’ টিকিট বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ। পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বৌবাজার থানায় মামলা দায়ের হয়। পরে তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
ইডি এবং পুলিশের তদন্তের মধ্যেই গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু মামলা থেকে সরে দাঁড়ান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তও। তদন্তের সূত্রে ইন্দ্রনীল সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁর একাধিক সম্পত্তিতে তল্লাশিও চালানো হয়েছে বলে খবর। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হন ইন্দ্রনীল সেন।




