নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে আচমকায় বদলে গেল পরিস্থিতি। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা মানুষের কাছে মুহূর্তের মধ্যে নেমে এলো চরম বিপর্যয়। চোখের সামনে তছনছ হয়ে গেল সাজানো সংসার। মাথার উপরে ছাদ হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে হোগল নদীকে ঘিরে এমনই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
ফের নদী বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে। গভীর রাতে হোগল নদীর বাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে গেল প্রায় ১০ থেকে ১২টি বসতবাড়ি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর, গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসন্তী থানার অন্তর্গত বাসন্তী গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাবল্লভপুর সংলগ্ন সজোনতলা এলাকায়। দুর্গত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে তৎপর হয়েছে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব এবং লাগাতার বৃষ্টির জেরে হোগল নদীতে জলের চাপ বাড়ছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে আচমকাই সজোনতলা এলাকায় নদী বাঁধের একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘুমের মধ্যেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। নদীর জলের তোড়ে ভেসে যায় প্রায় ১০ থেকে ১২টি মাটির বাড়িএমনই অভিযোগ এলাকা বাসির। তবে, এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। বাড়ির আসবাবপত্র-সহ হাঁস-মুরগিও জলে ভেসে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। মুহূর্তের মধ্যে মাথার ছাদ হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন বহু মানুষ।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় থানার পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। দুর্গত পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি, তাঁদের জন্য শুকনো খাবার ও ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করার তৎপরতাও চলছে। তবে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কতগুলি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তা আবার কখনও ভেঙ্গে পড়বে না তো তাঁদের শেষ আশ্রয়টুকুও।




