নিউজ ডেস্ক : কখনও বিশ্বাস, কখনও মনের জোর, মানুষকে কঠিন পথ পেরিয়ে যাওয়ার সাহস যোগায়। শারীরিক কষ্টের মধ্যেও সেই বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে কেউ বেছে নেন কঠোর ধর্মীয় সাধনার পথ। দীর্ঘ রাস্তা ক্লান্তি আর প্রতিকূলতাকে অপেক্ষা করে নিজের সংকল্প পূরণের এই প্রচেষ্টাই এখন কৌতূহলের কারণ হয়ে উঠেছে পুরুলিয়ার আড়ষা এলাকার। এক বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে এই যাত্রা যার গন্তব্য ঝাড়খণ্ডের অন্যতম প্রসিদ্ধ শৈবতীর্থ।
শারীরিক সমস্যার থেকে মুক্তির আশায় দণ্ডি দিয়ে দেওঘর এর বাবা বৈদ্যনাথ ধামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন আড়ষার মানকিয়ারী অঞ্চলের কিষনপুর গ্রামের বাসিন্দা কাশীনাথ মাহাতো। নিজের বাড়ির কালীমন্দিরে পূজো দেওয়ার পর সেখান থেকেই তাঁর এই ধর্মীয় যাত্রার সূচনা হয়েছে। কাশীনাথের এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কাশীনাথ মাহাতোর কথায়, শারীরিক সমস্যায় ভোগার সময় তিনি এর আগে একাধিকবার দন্ডী দিয়ে চিড়কা ধামে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, সেই যাত্রাপথ গুলির পর শারীরিক সমস্যার অনেকটাই উপশম হয়েছিল। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাবা বৈদ্যনাথের দর্শন করার সংকল্প নিয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, এই ধর্মীয় সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি মানসিক শান্তি ও শারীরিক স্বস্তি খুঁজে পাবেন।
তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে আড়ষার কদমপুর গ্রামের শিব মন্দিরে পৌঁছবেন তিনি। এরপর চিড়কা ধামে শিব বাবার দর্শন সেরে এগিয়ে যাবেন দেওঘরের বাবা বৈদ্যনাথ ধামের দিকে। পুরো পথ দন্ডী দিয়ে অতিক্রম করায় তাঁর লক্ষ্য। এই যাত্রায় কতটা সময় লাগবে তা নির্ভর করবে পথের পরিস্থিতি ও তাঁর শারীরিক সক্ষমতার ওপর।
ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবলম্বন করে কাশীনাথ মাহাতোর এই যাত্রা নিঃসন্দেহে কঠিন সংকল্পের পরিচয় বহন করছে। তবে দীর্ঘ পথ দন্দী অতিক্রম করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হওয়ার জন্য তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত ভক্তি ও দৃঢ় মনোবলকে সঙ্গী করে গন্তব্যের পথে এগিয়ে চলেছেন তিনি। কাশিনাথের এই সংকল্প নির্বিঘ্নে পূর্ণ হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে এলাকার মানুষের।




