নন্দন চত্বর নিয়ন আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে। হেমন্তের নাতিশীতোষ্ণ মোহ গাছগাছালির সবুজ বেয়ে ঝরে পড়ছে টুপটাপ। বই উত্সবের ভিড় ঠেলে শিল্পীর আঙুলের জাদুতে কুচকাওয়াজ করছে সে। স্মার্টফোনের যুগে সুতোয় বাঁধা শৈশব।
স্ক্রিন-টাইমের দুনিয়ায় হারানো শৈশবের পাসওয়ার্ড যেন! হঠাৎ চোখ টানলেন মানুষটা। যদিও টানার কথা নয়, প্রৌঢ়-মুখজুড়ে অনেকদিনের না-কাটা দাড়ি, চোখে চশমা, মলিন, বিবর্ণ শার্ট-প্যান্ট, হাতে কিছু অমূল্য শৈশব। নাহ, চোখ তো ভুল করার কথা নয়। তিনি তো জীবন্ত কিংবদন্তি। হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে আগলে রেখেছেন, যত্নে রেখেছেন, তাই আজও অমলিন তালপাতার সেপাই। তিনি সুনীল দাস।
বাংলার লোকশিল্পের শেষ বাতিঘর
সুনীলের জেদ, হারতে রাজি নয় বাংলার শেকড়। আধুনিকতার চোখে চোখ রেখে আজও তাই পাহারায় তালপাতার সেপাই। সুনীলের হাতে সুতোর টানেই বেঁচে আছে ইতিহাস। বিলুপ্তির পথে রুখে দাঁড়ানো এক তালপাতার সেপাইয়ের গল্প। খেলনা নয়, ইতিহাস, সুনীলের হাতেই আজও শ্বাস নিচ্ছে তালপাতার সেপাই।
বাংলার লোকশিল্পের এক বিশাল এবং বর্ণময় ক্যানভাস রয়েছে, যার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে সহজ-সরল মানুষের সৃজনশীলতা আর মাটির গন্ধ। একসময় গ্রামবাংলার মেলা মানেই ছিল নাগরদোলা, জিলিপি, পাঁপড়ভাজা আর হরেক রকম মাটির ও কাঠের খেলনার পসরা। আর সেই ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ত অদ্ভুত এক খেলনা। বিক্রেতার হাতের টানে সুতোয় বাঁধা একটা পুতুল অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাত-পা ছুড়ে নাচছে।
তার মাথায় টুপি, গায়ে উর্দি, আর চোখেমুখে কাল্পনিক গাম্ভীর্য। আজ স্মার্টফোন, ভিডিয়ো গেম আর প্লাস্টিকের রিমোট কন্ট্রোল গাড়ির যুগে এই জাদুকরী পুতুলটি প্রায় স্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু এই ডিজিটাল আগ্রাসনের যুগেও যে গুটিকয়েক মানুষ পরম মমতায় বাংলার এই প্রাচীন লোকশিল্পকে বুকের মধ্যে আগলে রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে উজ্জ্বলতম সুনীল দাস। আধুনিকতার প্রবল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সুনীল দাস আজ একাই যেন এই শিল্পের পাহারাদার।
কথা কওয়ার বন্ধু
পুতুল, সে বড় আপনজন। সকল দেশের সবার মনের মানুষ। কথা কওয়ার বন্ধু। ওই যে ছোট্ট মেয়ে, সেও সই পাতায় পুতুলের সঙ্গে। আবার অন্য রকমও হয়েছে কালের নিরিখে। যে কারণে বাংলার পুতুল মহল্লায় কাঠের পুতুল, মাটির পুতুলের বাইরে পাওয়া যায় তালপাতার পুতুল। শিল্পী এখানে একটু অন্য কথার মানুষ। সে বানায় সাহেব মেমসাহেব, সে বানায় সেপাই। শুধু তাই নয়, এমন তার কায়দা কানুন যে তাকে হাতে নিয়েও নাচানো যাবে। এর ভেতর দিয়ে কি নতুন কোনও কথা বলতে চাইলেন শিল্পী সুনীল?
তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ফিরে যাচ্ছিলাম এক আগুন-মাখা অতীতে। বাংলায় তখন স্বরাজ বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক তরুণ তাজা প্রাণ অস্ত্র হাতে নেমেছে বিপ্লবে। মানুষের মন তখন স্বাধীনতা চায়। তার ভাবনায় তখন অন্য বাসনা। যেভাবে সাহেবরা গোটা দেশের মানুষকে দু’আঙুলে নিয়ে নাচায় বা অত্যাচার করে ঠিক তেমন ভাবেই সাহেবদের হাতে নাচানোর ইচ্ছা মানুষের মনে বুরবুরি কাটতে থাকে। বাংলার ঘরের পুতুল শিল্পীও সেই ইচ্ছার উল্টো পথের পথিক নন। সেই ভাবনাকে আরও অনেকটা উসকে দিতে তাঁরা খুঁজে নিলেন একেবারেই হাল্কা পুল্কা একটা পুতুল বানানোর মাধ্যম। গাছগাছালির দেশ বাংলা।
শিল্পীর খুব একটা অসুবিধেও হল না নয়া মাধ্যম খুঁজে নিতে। ওই যে তালগাছ ‘এক পায় দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে।’ এই গাছের পাতা দিয়েই তৈরি হবে পুতুল। কেবল চাই একটা কঞ্চি কাঠি আর সঙ্গে মা বোনেদের কাঁথা কাপড় সেলাইয়ের টুকরো সুতো। এই সব উপকরণ দিয়েই তৈরি হল তালপাতার সেপাই, তৈরি হল সাহেব মেম। সাহেবের আবার কলার তোলা ফিরিঙ্গি পানা জামা। মূলত বর্ধমান জেলায় জন্ম নিল এমন পুতুল। তার পর গাঁ-বাংলার অন্যান্য জেলাতেও শুরু হয়ে গেল এমন পুতুলের চল। আজও বর্ধমানের মদন দত্ত তাই হয়ত অকপটে বলে বসেন ‘সাহেব, সেপাই নাচিয়ে বেড়াই আজও কিন্তু মনের আশ মেটে না।’
ঠাকুরদার কাছে গল্প শুনেছেন গুপ্ত সমিতির ধুতি আর শার্ট পরা যুবকরা গ্রামের মেলায় এসে খোঁজ করতেন তালপাতার সেপাইয়ের। আর অন্যদিকে পরাধীন ভারতের কলকাতার বারোয়ারি ক্লাবগুলোতে হত বিরাষ্টমী মেলা। অনুশীলন সমিতির সন্তানরা লাঠি খেলা, ছুরি খেলা আর কুস্তি খেলা দেখাতেন পুজো মাঠে অষ্টমীর দিন। মেলা লাগত সেই মাঠ জুড়ে। বাগবাজার বা সিমলে পাড়ায় সেদিন অন্য ব্যস্ততা। তারই মাঝে গ্রাম থেকে আসা পুতুল কারিগর বিক্রি করতেন তালপাতার সেপাই কিংবা সাহেব পুতুল। বুড়ো থেকে শুরু করে খোকা-খুকু সকলেই মেতে উঠতেন সেপাই নাচানোর বা সাহেব নাচানোর পাগলাই ধুমে। গান শুরু হয়। ভয় কি মরণে...। তালপাতার পুতুলে সেদিন দেশপ্রেমের আগুন, তালপাতার সাহেব সেপাই।
তালপাতার সেপাই শুধু একটা খেলনা নয়, বাংলার লোক-ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ঠিক পরবর্তী সময়ে বাংলার লোকশিল্পীদের হাতে এই খেলনার জন্ম। ব্রিটিশ পুলিশ ও সিপাহিদের কঠোর কুচকাওয়াজ, তাদের কড়া হাবভাব ও লাল-নীল পোশাককে কিছুটা ব্যঙ্গ করে, আবার কিছুটা অনুকরণ করেই এই পুতুল তৈরি শুরু হয়। সাধারণ মানুষের কাছে ব্রিটিশদের সেই আধিপত্যকে খেলনার মোড়কে বেঁধে ফেলার এ ছিল এক অভিনব শৈল্পিক প্রতিবাদ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি গ্রামবাংলার মেলার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়। রথের মেলা, চড়ক, গাজন থেকে শুরু করে পৌষমেলা, সর্বত্রই এই সেপাইদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুদের কাছে এর চেয়ে বড় বিস্ময় তখন আর কিছু ছিল না। কিন্তু আজ সেই দিন আর নেই। প্লাস্টিক ও ফাইবারের সস্তা খেলনার দাপটে তালপাতার সেপাই আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
অসম লড়াইয়ের ময়দানে সুনীল দাস
সুনীল দাসের শিল্পচর্চা কোনও যান্ত্রিকতার বেড়াজালে বন্দি নয়, গভীর শৈল্পিক সাধনার কালোত্তীর্ণ অধ্যায় বলা চলে। একটি তালপাতার সেপাই তৈরি করার প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ এবং শ্রমসাধ্য। মেলার মাঠে দাঁড়িয়েই সুনীলবাবুর সঙ্গে টুকটাক কথাবার্তা চলছিল। কেউ কেউ আগ্রহভরে এগিয়ে আসছেন, কিনছেনও দু-একটা। কিন্তু তালপাতার সেপাই বিক্রির জোয়ার বলা যাবে না মোটেই। এখন আর আক্ষেপ করেন না। নিজের কাজ করে চলেন। বড়ছেলেকে শিখিয়েছেন। সুনীল বলছিলেন, তাঁর থেকেই ছেলের মাথা নাকি আরও বেশি পরিষ্কার, আরও নিত্যনতুন তালপাতাই সেপাই বানান সুনীলের ছেলে। প্রথমে গ্রাম থেকে উপযুক্ত তালপাতা সংগ্রহ করতে হয়।
তারপর সেই পাতাগুলোকে কড়া রোদে শুকিয়ে, নির্দিষ্ট মাপে নিখুঁতভাবে কাটেন। পুতুলের শরীর, হাত, পা, মাথা আলাদা আলাদা করে কেটে সেগুলোকে বাঁশের কঞ্চি বা কাঠির সঙ্গে সুতো দিয়ে এমনভাবে জুড়ে দেন, যাতে মূল কাঠিটি ঘোরালে বা সুতো টানলেই পুতুলের হাত-পাগুলো একসঙ্গে নড়ে ওঠে। সুতোর টানে পুতুলের অঙ্গসঞ্চালন এক অসাধারণ দেশীয় মেকানিক্স। এরপর তুলির আঁচড়ে পুতুলের গায়ে ফুটিয়ে তোলেন সিপাহির উর্দি, চোখের কড়া চাহনি, আর মাথার টুপি। পরিবেশবান্ধব এই পুতুল তৈরিতে কোনও রাসায়নিক বা প্লাস্টিকের ব্যবহার নেই। সবটাই প্রকৃতির দান আর শিল্পীর হাতের জাদু। সুনীল দাসের আঙুলের ছোঁয়ায় যেন প্রাণহীন তালপাতা মুহূর্তে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ক্লিক নয়, সুতোর টান
এই শিল্পের হারিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে লুকিয়ে আছে গভীর আর্থ-সামাজিক ট্র্যাজেডি। একসময় বর্ধমান, নদিয়া, হাওড়া, বীরভূম, বাঁকুড়া বা মেদিনীপুরের অনেক গ্রামেই তালপাতার সেপাই তৈরির কারিগর ছিলেন। বংশপরম্পরায় তাঁরা এই কাজ করতেন। কিন্তু বর্তমানে এই শিল্পের সবচেয়ে বড় শত্রু অর্থনৈতিক দৈন্য। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে কটি পুতুল তৈরি হয়, তা বিক্রি করে শিল্পীর দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন জোটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বেশিরভাগ শিল্পীই বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ মাঠে দিনমজুরের কাজ করছেন, কেউবা শহরে এসে রিকশা চালাচ্ছেন। নতুন প্রজন্ম এই শিল্প শিখতে একেবারেই আগ্রহী নয়, কারণ এতে কোনও আর্থিক নিরাপত্তা নেই।
অন্যান্য লোকশিল্প, যেমন ডোকরা, টেরাকোটা বা পটচিত্র কিছুটা সরকারি ও বেসরকারি আনুকূল্য পেলেও, তালপাতার সেপাইয়ের মতো ক্ষণস্থায়ী খেলনা সেইভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কদর পায়নি। দু-একজন বৃদ্ধ শিল্পী হয়ত বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে আজও নিজেদের খেয়ালে এই পুতুল গড়েন, কিন্তু তাঁদের কথা কেউ জানে না, মূল স্রোতে তাঁদের কোনও অস্তিত্ব নেই। এই ঘোর অন্ধকারের মাঝেই সুনীল দাস উজ্জ্বল ব্যতিক্রম, যিনি একাই এই শিল্পের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন।
বিশ্বজয়ে সুনীল দাসের ‘তালপাতার সেপাই’
সুনীল দাসকে বাংলার এই লোকশিল্পের শেষ বাতিঘর বলা চলে। কলকাতার নন্দন চত্বর, আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা, বিভিন্ন হস্তশিল্প মেলা বা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর সামনে কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ আর দু’হাতে একগুচ্ছ তালপাতার সেপাই নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পাবেন তাঁকে। নন্দন চত্বরে দাঁড়িয়ে যখন তিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, বারবার মনে হচ্ছিল, তাঁর এই দাঁড়িয়ে থাকা শুধু খেলনা বিক্রির জন্য নয়, এ হল এক নীরব প্রতিবাদ। যান্ত্রিক সভ্যতার বিরুদ্ধে এক শিল্পীর জেদ। লাভ-ক্ষতির হিসেব কষলে তিনি কবেই এই কাজ ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু সুনীলবাবু তা পারেননি। তাঁর কাছে এই তালপাতার সেপাইগুলো তাঁর নিজের সন্তানের মতো।
তিনি বিশ্বাস করেন, মাটির কাছাকাছি থাকা শিল্পের কোনওদিন মৃত্যু হতে পারে না, যদি তার যত্ন নেওয়া হয়। যখন কোনও শিশু তাঁর কাছ থেকে পুতুলটি কিনে অবাক চোখে সেটির নড়াচড়া দেখে, তখন সেই শিশুর মুখের হাসিতেই সুনীলবাবু তাঁর সমস্ত শ্রমের সার্থকতা খুঁজে পান। তাঁর তৈরি প্রতিটি সেপাইয়ের চেহারায় যেন আলাদা আলাদা চরিত্র ফুটে ওঠে। কেউ একটু রাগী, কেউ একটু বোকা বোকা, আবার কেউ বা ভীষণ চটপটে। তবে নিজের দেশে এই শিল্প অবহেলিত হলেও, সুনীল দাসের হাত ধরে তালপাতার সেপাই পৌঁছে যাচ্ছে বিদেশের মাটিতে। বিদেশি পর্যটকরা কলকাতায় এলে সুনীল দাসের এই অভিনব, পরিবেশবান্ধব এবং সম্পূর্ণ হাতে তৈরি খেলনা দেখে মুগ্ধ হন।
তাঁরা অবাক হয়ে দেখেন, কীভাবে সামান্য পাতা আর সুতোর সাহায্যে এমন নিখুঁত মেকানিক তৈরি করা যায়! অনেকেই বাংলার সংস্কৃতির স্মারক হিসেবে এই পুতুল কিনে নিয়ে যান। সুনীল বলছিলেন, অনেক প্রবাসী বাঙালি, যাঁরা বহু বছর ধরে আমেরিকা, ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়ায় বাসিন্দা, তাঁরা যখন দেশে ফেরেন, তখন সুনীলবাবুর কাছ থেকে তালপাতার সেপাই কিনে নিয়ে যান। উদ্দেশ্য একটাই, নিজেদের সন্তানদের বাংলার প্রাচীন লোকঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করানো। বিদেশের মাটিতে বাংলার এই অবহেলিত শিল্পের যে সামান্য হলেও কদর তৈরি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সুনীল দাসের।
সুনীল দাসের এই পথচলা আমাকে অনেকগুলো প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।
একটি প্রাচীন শিল্প কি কেবল একজন ব্যক্তির জেদের ওপর ভর করে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে? সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে এই শিল্পীদের সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে খুব শিগগির হয়ত তালপাতার সেপাই চিরতরে হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়। তখন হয়ত মিউজিয়ামের কাচের বাক্সে বন্দি হয়ে থাকবে এই পুতুল, যার সুতো টানার মতো কোনও হাত আর অবশিষ্ট থাকবে না। সুনীল দাস ছেলেকে তৈরি করেছেন, তাই তিনি মনে করেন, তাঁর অবর্তমানে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার মতো কেউ নিশ্চয়ই থাকবে, এই শিল্পের স্পন্দন একেবারে থেমে যাবে না। সুনীল দাস যেন প্রতি মুহূর্তে আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন, শিকড়ের প্রতি ভালবাসা থাকলে শত প্রতিকূলতার মাঝেও একটি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।
তাঁর এই নিঃস্বার্থ শিল্পসাধনা বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তালপাতার সেপাই আজ শুধু একটা খেলনা নয়, আমাদের শৈশবের অমূল্য স্মারক। আর সুনীল দাস প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি নিজেই এক অদম্য সেপাই, যিনি আধুনিকতার সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলার এক প্রাচীন ঐতিহ্যকে রক্ষা করার জন্য। তাঁর হাতের জাদুতে তালপাতার পুতুলগুলো নেচে উঠল, মনে হল, বাংলার লোকশিল্পের আত্মায় আজও প্রাণ রয়েছে, আর সেই প্রাণের মূল কাণ্ডারি শিল্পী সুনীল দাস।




