স্বাগত ভট্টাচার্য: আজ লক্ষ্মীপুজোর পবিত্র দিনে শিল্পজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শিল্প ও সংস্কৃতি মহল। একদিকে ঘরে ঘরে যখন ধনদেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতেছেন মানুষ, অন্যদিকে তখনই হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠেছে শিল্পানুরাগীদের মন। কাকতালীয়ভাবে, দেবী লক্ষ্মীর এক অনন্য রেখাচিত্রকে ঘিরে যখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই শিল্পীর প্রয়াণের খবর যেন আরও আবেগঘন করে তুলেছে তাঁর শিল্পকর্মের স্মৃতিকে।
ভারতীয় সমসাময়িক শিল্পকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং বরেণ্য চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর একটি অনন্য সৃষ্টি সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে শিল্পানুরাগীদের মাঝে বিপুল সাড়া ফেলেছে। সাধারণ কাগজ ও কালির টানে ফুটিয়ে তোলা দেবী লক্ষ্মীর এই রেখাচিত্রটি তাঁর নিজস্ব ও চেনা ঘরানার এক অনবদ্য নিদর্শন। কাগজের নিচের অংশে শিল্পীর নিজস্ব স্বাক্ষর ও তারিখ ১৯.১০.২০২৬ খোদাই করা এই স্কেচটিতে সনাতনী ভাবধারার সাথে আধুনিক রেখাশৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গেছে। ছবিতে দেবী লক্ষ্মীকে অত্যন্ত শান্ত ও সৌম্য ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে, যা জোজেন চৌধুরীর স্বভাবসিদ্ধ বাঁকানো ও বলিষ্ঠ রেখার ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
শিল্প সমালোচকদের মতে, যোগেন চৌধুরী সবসময়ই ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় রূপকল্পকে এক আধুনিক ও নাগরিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেন। দেবী লক্ষ্মীর এই অবয়বটিও তার ব্যতিক্রম নয়। জমকালো কোনো রঙের ব্যবহার ছাড়াই, শুধুমাত্র নীল কালির সূক্ষ্ম টানে এবং অলঙ্করণের পরিমিতিবোধে তিনি যে গভীরতা সৃষ্টি করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। উৎসবের আবহে তাঁর এই শিল্পকর্মটি পুনঃপ্রকাশ পাওয়ায় সাধারণ মানুষ এবং চিত্রশিল্পপ্রেমীদের মাঝে এটি বিশেষ আলোড়ন তৈরি করেছে।
শিল্পীর মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্টি থেকে যায় সময়ের সীমানা পেরিয়ে। যোগেন চৌধুরীর তুলির টানে ও রেখার বুননে ভারতীয় শিল্পকলার যে স্বতন্ত্র ভাষা গড়ে উঠেছিল, তা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। লক্ষ্মীপুজোর দিনে তাঁর প্রয়াণ তাই একদিকে যেমন গভীর শোকের, তেমনই তাঁর সৃষ্টির দিকে ফিরে তাকানোরও মুহূর্ত। শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সবচেয়ে বড় উপায়, তাঁর শিল্পকর্মকে বাঁচিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।




