কলকাতা: দীর্ঘ বিরতির পর ঘরের মাঠে খেলতে নামার আগে দলের কৌশলে বড়সড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন না মোহনবাগান কোচ প্যানজিওটিস। প্রতিপক্ষ কিংবা মাঠের চরিত্র বদলালেও দলের মৌলিক নীতিতে কোনও বদল হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। বলের দখল রেখে আক্রমণ গড়ে তোলা, প্রতিপক্ষের বক্সে পৌঁছে গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং নিজেদের গোলমুখ বিপন্মুক্ত রাখাই তাঁর দলের প্রধান লক্ষ্য।
প্যানজিওটিসের কথায়, ‘আমরা বলের দখল রাখতে চাই। বল নিজেদের পায়ে রেখে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি পৌঁছতে চাই, বক্সের ভিতরে সুযোগ তৈরি করতে চাই এবং গোল করতে চাই। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে আমাদের গোল থেকে দূরে রাখতে চাই, যাতে গোল খাওয়ার আশঙ্কা কমে।’
ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলতে নামার বাড়তি তাগিদও রয়েছে মোহনবাগান ফুটবলারদের মধ্যে। সমর্থকদের উপস্থিতি দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদী কোচ। তবে শুধু আক্রমণ তৈরি করলেই হবে না, সেই সুযোগগুলিকে গোলে পরিণত করাও জরুরি। নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ২৬টি শট নিয়েও গোল করতে পারেনি মোহনবাগান। সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে চান প্যানজিওটিস।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২৬ শট নেওয়ার পরও গোল না পাওয়া স্বাভাবিক নয়। অন্তত তিন-চারটি গোল করা উচিত ছিল। আমাদের লক্ষ্য সেই জায়গায় উন্নতি করা, যাতে তৈরি করা সুযোগগুলি কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিততে পারি।’
দীর্ঘ লিগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দিতে চান মোহনবাগান কোচ। ভবিষ্যতের ম্যাচ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে গিয়ে বর্তমান ম্যাচের প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি রাখতে নারাজ তিনি। প্যানজিওটিসের কথায়, ‘পরবর্তী ম্যাচের কথা ভেবে বর্তমান ম্যাচে মনোযোগ হারালে চলবে না। আমাদের কাছে এখন চেন্নাইয়িন এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলারদের এমনভাবে লড়াই করতে হবে, যেন এটাই মরসুমের শেষ ম্যাচ।’
প্রতিপক্ষ চেন্নাইয়িন এফসি-কেও যথেষ্ট সমীহ করছেন বাগান কোচ। প্রতিপক্ষের কোচ এবং ফুটবলারদের প্রশংসা করে তাঁর বার্তা, জয় পেতে হলে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। তবে ম্যাচের আগে ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে সবুজ-মেরুন শিবিরে। আপুইয়া, জেমি ম্যাকলারেন এবং মিগেলের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছে দল। ম্যাকলারেন ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে আপুইয়ার ফিটনেস খতিয়ে দেখা হবে। অন্য দিকে, মিগেলও হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ভুগছেন।
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে কোচের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অনিরুদ্ধ থাপা। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে জানালেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর কথায়, ‘বিশ্বের সেরা মানের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ভালো পারফরম্যান্স করে নিজের লিগে ফিরলে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায়।’ আন্তর্জাতিক স্তরে সেই অভিজ্ঞতা শুধু তাঁকেই নয়, সতীর্থদেরও অনুপ্রাণিত করেছে বলে মনে করেন অনিরুদ্ধ।
চেন্নাইয়িনে বেড়ে ওঠা এই মিডফিল্ডার মোহনবাগানের শক্তি সম্পর্কেও আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, দলের প্রত্যেক ফুটবলারেরই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া হোক বা পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামা, প্রত্যেককেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। অনিরুদ্ধের কথায়, ‘প্রথম একাদশে থাকুন কিংবা পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামুন, প্রত্যেকেরই ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।’
সব মিলিয়ে, চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা। আক্রমণে ধার বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ষণেও সতর্ক থাকতে হবে সবুজ-মেরুনকে। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে জয় তুলে নিতে হলে পরিকল্পনার সঠিক প্রয়োগ এবং গোলের সামনে আরও কার্যকর হয়ে ওঠাই প্যানজিওটিসের দলের কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।




