নিউজ ডেস্ক: মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন নিনেভে শহরের ধ্বংসাবশেষে খননকাজ করতে গিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক ডা. ফিলিপ মর্টিমার আবিষ্কার করলেন লালচে বেলেপাথরের একটি অদ্ভুত মূর্তি। মানুষের মতো শরীর, চারটি বিশাল ডানা, শিকারির নখ এবং কুকুরের মতো হিংস্র মুখাবয়বের মূর্তিটি দেখে তিনি চিনতে পারলেন প্রাচীন দানব পাজুজুকে—দক্ষিণ-পশ্চিমের ঝোড়ো বাতাসের অধিপতি। স্থানীয় সহকারী করিম তাঁকে সতর্ক করলেও ফিলিপ মূর্তিটি সঙ্গে নিয়ে লন্ডনে ফিরে এলেন।
লন্ডনের ব্লুমসবারির বাড়িতে মূর্তিটি রাখার পর থেকেই অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করল। ফিলিপের ঘুম উধাও হয়ে গেল। বন্ধ ঘরে পাওয়া যেতে লাগল মরুভূমির লাল বালি ও মৃত পোকা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল পচা মাংসের গন্ধ। এক রাতে তাঁর বন্ধু ড্যানিয়েল ভনের সামনে মূর্তিটির নখ নড়ে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে কাচের বাক্স ভেঙে গেল, নিভে গেল ঘরের আলো। অন্ধকারের মধ্যে ভেসে এল এক প্রাচীন কণ্ঠস্বর—“আমি বাতাসের পিতা। আমি তৃষ্ণার মালিক। ড্যানিয়েল দেখলেন, ছাদের সঙ্গে উল্টো হয়ে ঝুলছে চার ডানাওয়ালা এক ভয়ংকর ছায়ামূর্তি। মেঝেতে পড়ে থাকা ফিলিপের মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে ধোঁয়া। আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে ড্যানিয়েল ছুটলেন ফাদার টমাস মারফির কাছে।
ভ্যাটিকানের প্রাচীন নথি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা মারফি পাজুজুকে চিনতেন। তিনি জানালেন, মেসোপটেমিয়ার মানুষ একসময় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের রক্ষা করতে পাজুজুর মূর্তি ব্যবহার করত। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই দানব লামাশতু নামের আরেক অপশক্তিকে ঠেকাতে পারে। কিন্তু পাজুজু নিজেই ছিল ভয়ংকর এক মহামারির প্রতীক। তার জাগরণ মানেই বিপর্যয়। ফিলিপের বাড়িতে পৌঁছে মারফি দেখলেন, তীব্র উত্তাপে ঘরের গাছপালা শুকিয়ে ছাই হয়ে গেছে। ফিলিপের শরীর বিকৃত, চোখ সাদা, আর তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে দশ ফুট লম্বা পাজুজুর ছায়া। দানবটি ঘোষণা করল, লন্ডনের লক্ষ লক্ষ মানুষের নিঃশ্বাস শুষে নিয়ে তাদের ফুসফুসে প্লেগের বিষাক্ত ছাই ভরে দেবে।
মারফি ক্রুশ, পবিত্র জল এবং প্রাচীন মন্ত্রের সাহায্যে দানবটির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করলেন। কিন্তু পাজুজুর প্রবল শক্তির সামনে তাঁর প্রার্থনা ব্যর্থ হতে বসেছিল। শেষ মুহূর্তে তিনি পকেট থেকে বের করলেন সূর্যদেবতা শামাশের একটি প্রাচীন মাটির সিলমোহর। সেটি পাজুজুর পাথরের মূর্তির কপালে চেপে ধরে চিৎকার করলেন, “আলোর অধিপতির নামে—বিলীন হও!” প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মতো শব্দে থেমে গেল ঝড়। মূর্তিতে গভীর ফাটল ধরল। ফিলিপের নিথর দেহের ওপর পড়ে রইল প্রাণহীন পাথরের মূর্তি। মারফি ভাবলেন, অবশেষে বিপদ কেটেছে। কিন্তু স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
জানলার বাইরে থেকে আবার ভেসে এল সেই পরিচিত শব্দ ও “হিশ-শ-শ...” আকাশের দিকে তাকিয়ে মারফি দেখলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসছে এক বিশাল ধূলিঝড়। তার মধ্যে ফুটে উঠেছে চারটি ডানা ও জ্বলন্ত রক্তবর্ণ চোখ। বাতাসে ভেসে এল পাজুজুর কণ্ঠস্বর, “পাথর ভেঙেছ, ভৃত্য... কিন্তু বাতাসকে কি কোনো দিন বন্দি করা যায়?” বিগ বেনের ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে লন্ডনের একের পর এক বাতিস্তম্ভের আলো নিভে গেল। মারফি বুঝলেন, পাথরের মূর্তি ধ্বংস হলেও আদিম অন্ধকারের বিনাশ ঘটেনি। এবার সেই অশুভ শক্তি গ্রাস করতে চলেছে গোটা পৃথিবীকে।




