বিশেষ প্রতিবেদন: তেল-গ্যাসের বিপুল ভাণ্ডার, বিস্তীর্ণ অরণ্য, রাজকীয় মসজিদ আর শান্ত জীবনযাত্রা—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ ব্রুনেইকে ঘিরে পর্যটকদের কৌতূহল বাড়ছে। দাবি, সেখানে বোতলবন্দি জলের চেয়েও কম দামে মেলে পেট্রল! ভারতীয়দের জন্য তিন দিনের ভিসা ছাড়ের কথাও উঠে এসেছে এক ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতায়। তবে ভিসার বিষয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা না জেনে বিদেশযাত্রার পরিকল্পনা করলে সমস্যায় পড়তে পারেন পর্যটকেরা।
ব্রুনেইয়ের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। জ্বালানি সম্পদের প্রাচুর্য এবং সরকারি ভর্তুকির কারণে দেশটিতে পেট্রলের দাম তুলনামূলক কম। ভ্রমণ-নির্মাতা অঙ্কিতা কুমার সম্প্রতি ব্রুনেই সফরের অভিজ্ঞতা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, সেখানে পেট্রলের দাম এতটাই কম যে বোতলবন্দি জলের দামের সঙ্গেও তার তুলনা চলে। যদিও জ্বালানি ও জলের নির্দিষ্ট দাম, ব্র্যান্ড এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে এই তুলনা বদলে যেতে পারে।
ব্রুনেইয়ের আর এক আকর্ষণ তার শান্ত পরিবেশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির মতো এখানে সর্বত্র ভিড়, যানজট কিংবা রাতভর বিনোদনের আয়োজন নেই। অঙ্কিতার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, শহরের রাস্তাঘাট তুলনামূলক নির্জন। ব্যস্ত শহুরে জীবনের বদলে এখানে চোখে পড়ে ধীরগতির জীবনযাত্রা, সবুজের সমারোহ এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ।
দেশটির রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ান পর্যটকদের কাছে বিশেষ পরিচিত। সুলতান ওমর আলি সাইফুদ্দিন মসজিদের রাজকীয় স্থাপত্য, জলগ্রামের ঐতিহ্য এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ব্রুনেইয়ের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্য। ভ্রমণকারীর দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বনভূমিতে ঢাকা। ফলে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও এই দেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
তবে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য তিন দিনের ভিসা ছাড়ের দাবি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণ ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের ব্রুনেইয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসার প্রয়োজন হয়। কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে ভিসা ছাড়ের সুবিধা থাকলেও তা সাধারণ পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই ভিসা ছাড়াই তিন দিন ব্রুনেইয়ে থাকা যাবে, এমন দাবির উপর নির্ভর করে টিকিট বুক করা ঠিক হবে না।
যাত্রার আগে ব্রুনেইয়ের সরকারি অভিবাসন নির্দেশিকা বা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের কাছ থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন। ব্রুনেইয়ের সামাজিক জীবনযাত্রাও বেশ আলাদা। দেশটিতে মদ্যপানের উপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। স্থানীয় মুসলিমদের জন্য মদ্যপান নিষিদ্ধ। ফলে যাঁরা রাতভর পার্টি কিংবা জমজমাট নাইটলাইফের খোঁজে বিদেশে যান, তাঁদের কাছে ব্রুনেই কিছুটা নিরিবিলি মনে হতে পারে।
অন্য দিকে, শান্ত পরিবেশ, স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতি উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের কাছে এই দেশ হতে পারে অন্য রকম অভিজ্ঞতার ঠিকানা। বিমানভাড়ার ক্ষেত্রেও খরচের হিসাব করে নেওয়া প্রয়োজন। অঙ্কিতার দাবি, চেন্নাই থেকে ব্রুনেই পৌঁছতে সরাসরি উড়ানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। একমুখী টিকিটের দাম ১৭ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকার মধ্যে শুরু হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে বিমান পরিষেবা, বুকিংয়ের সময় এবং মরসুমের উপর নির্ভর করে ভাড়া বদলে যায়। তাই যাত্রার আগে বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটে উড়ানের সময়সূচি ও টিকিটের দাম যাচাই করে নেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, কম দামের জ্বালানি, অরণ্যঘেরা পরিবেশ, রাজকীয় স্থাপত্য এবং শান্ত জীবনযাত্রার কারণে ব্রুনেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।




