পটনা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে বিহারের পটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। রবিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এক ব্যক্তির মন্তব্যের জবাবে খাড়গে বলেন, “মোদীর বাপও চলে যাবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই সভায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন খাড়গে। সেই সময় উপস্থিত এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, মোদী ক্ষমতা থেকে যাবেন না। তার জবাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওই মন্তব্য করেন কংগ্রেস সভাপতি। অভিযোগ, এরপর সভায় উপস্থিত কয়েকজন ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে মারধর করেন এবং তাঁকে বাইরে বের করে দেন।
https://x.com/santoshkmall/status/2114351475245932817?s=20
তবে ঘটনার পর নতুন করে সামনে এসেছে ওই ব্যক্তির বক্তব্য। তাঁর নাম সন্তোষ কুমার। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তিনি আসলে বলছিলেন, “বিদ্রোহ না হলে মোদী যাবেন না।” কিন্তু তাঁর কথার একটি অংশই শোনা গিয়েছিল, যার জেরে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
সন্তোষ কুমারের আরও দাবি, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরোধিতা করেই মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন। যদিও গোটা ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
খাড়গের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে খাড়গে রাজনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস এর আগেও প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে নিশানা করে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছে।
বিজেপির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহাও খাড়গের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, দেশের উন্নয়ন, নীতি ও জনকল্যাণ নিয়ে আলোচনার বদলে বিরোধীরা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির প্রতিবাদ, অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তির বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝির দাবি সব মিলিয়ে পটনার ওই সভার ঘটনা এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায়।




