বিশেষ প্রতিবেদন: ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে এবার মহাকাশে আরও বড় পদক্ষেপ। বায়ুসেনার জন্য তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম নিজস্ব যোগাযোগ উপগ্রহ GSAT-7C। ২,৫৬৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প ঘিরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে উপগ্রহটিকে কার্যকর করা।
আকাশপথে যুদ্ধের ময়দানে শুধু আধুনিক যুদ্ধবিমান থাকলেই হয় না, প্রয়োজন নিখুঁত যোগাযোগ ব্যবস্থারও। আর এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতেই GSAT-7C তৈরির উদ্যোগ।
নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে ২,৫৬৩ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ইসরোর বাণিজ্যিক শাখার হাত ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হবে এই উপগ্রহ। এর মূল লক্ষ্য, ভারতীয় বায়ুসেনার বিভিন্ন সামরিক প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
আকাশ থেকে মাটি—যোগাযোগে নতুন শক্তি!
বর্তমানে GSAT-7A উপগ্রহের সাহায্যে বিমানঘাঁটি, স্থলভিত্তিক রাডার, আকাশে শত্রুর গতিবিধি শনাক্তকারী বিশেষ বিমান এবং চালকবিহীন আকাশযানের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে ভারতীয় বায়ুসেনা। তবে এই উপগ্রহ ভারতীয় স্থলসেনারও কিছু যোগাযোগের প্রয়োজন মেটায়।
নতুন GSAT-7C হবে সম্পূর্ণ বায়ুসেনার জন্য। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে বিশেষ স্থলভিত্তিক যোগাযোগ কেন্দ্র এবং সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত রেডিও ব্যবস্থা। ফলে দীর্ঘ দূরত্বে থাকা সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
নৌসেনার পর এবার বায়ুসেনার নিজস্ব যোগাযোগ উপগ্রহ
সামরিক যোগাযোগে উপগ্রহের ব্যবহার ভারতের কাছে নতুন নয়। ২০১৩ সালে ভারতীয় নৌসেনার জন্য GSAT-7 বা ‘রুক্মিণী’ পরিষেবায় যুক্ত হয়। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ, ডুবোজাহাজ, বিমান এবং উপকূলবর্তী নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই উপগ্রহ। ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করা হয় GSAT-7A, যা বায়ুসেনার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সাহায্য করছে। এবার GSAT-7C যুক্ত হলে বায়ুসেনার জন্য আলাদা যোগাযোগ উপগ্রহের পরিকাঠামো তৈরি হবে।
লক্ষ্য ২০৩০, নজর মহাকাশে
২০২১ সালের নভেম্বর মাসেই GSAT-7C প্রকল্পের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল। সেই সময় প্রকল্পটির জন্য ২,২৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এবার ২,৫৬৩ কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি আরও এক ধাপ এগোল। উপগ্রহটি আগামী দু’বছরের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তবে ইসরোর তরফে এখনও নির্দিষ্ট উৎক্ষেপণের দিন ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।




