JAZZBAAT 24 BANGLA
২৫ অক্টো ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
Breaking
সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা নয়, পান করুন জল! শরীর সুস্থ রাখতে জানুন খালি পেটে জল খাওয়ার উপকার... SouravGanguly: পাড়ার বিসর্জনে সৌরভের বড় ঘোষণা, ২০২৭-এই মুক্তি পাবে মহারাজের বায়োপিক? প্রাচীন দানব পাজুজুর অভিশাপে কাঁপল লন্ডন! পাথরের মূর্তি ভেঙেও কি থামানো গেল অশুভ শক্তিকে? GSAT-7C: আকাশযুদ্ধে আরও শক্তিশালী ভারত! বায়ুসেনার জন্য আসছে নিজস্ব স্যাটেলাইট GSAT-7C Bangladesh: ইমক্যাবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আশ্বাস হাইকমিশ... Bangladesh : বাংলাদেশে সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’র সাথে ইউপিডিএফের গোলাগুলি Bangladesh: বাংলাদেশে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একই বাড়ির আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির এক অনন... Mallikarjun Kharge: ‘মোদীর বাপও চলে যাবে’ মন্তব্য খাড়গের! সভায় হইচই, মারধরের পর বের করে দ... সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা নয়, পান করুন জল! শরীর সুস্থ রাখতে জানুন খালি পেটে জল খাওয়ার উপকার... SouravGanguly: পাড়ার বিসর্জনে সৌরভের বড় ঘোষণা, ২০২৭-এই মুক্তি পাবে মহারাজের বায়োপিক? প্রাচীন দানব পাজুজুর অভিশাপে কাঁপল লন্ডন! পাথরের মূর্তি ভেঙেও কি থামানো গেল অশুভ শক্তিকে? GSAT-7C: আকাশযুদ্ধে আরও শক্তিশালী ভারত! বায়ুসেনার জন্য আসছে নিজস্ব স্যাটেলাইট GSAT-7C Bangladesh: ইমক্যাবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আশ্বাস হাইকমিশ... Bangladesh : বাংলাদেশে সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’র সাথে ইউপিডিএফের গোলাগুলি Bangladesh: বাংলাদেশে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একই বাড়ির আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির এক অনন... Mallikarjun Kharge: ‘মোদীর বাপও চলে যাবে’ মন্তব্য খাড়গের! সভায় হইচই, মারধরের পর বের করে দ...

Bangladesh: বাংলাদেশে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একই বাড়ির আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত

Bangladesh: বাংলাদেশে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একই বাড়ির আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে একই সীমানাপ্রাচীরের অভ্যন্তরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির। একদিকে ধূপের সুবাস, শঙ্খধ্বনি আর দুর্গাপূজার ঢাকের বোল; অন্যদিকে ভেসে আসে পবিত্র আজানের সুমধুর ধ্বনি। দুই ধর্মের উপাসনা পদ্ধতি আলাদা, প্রার্থনার ভাষা আলাদা, বিশ্বাসের পথও ভিন্ন। কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের প্রশ্নে কোথাও কোনো বিভেদ নেই। যুগের পর যুগ ধরে এভাবেই পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুশীলন। সম্প্রীতির এই অনন্য চিত্র কোনো কল্পকাহিনী নয়, কোনো সাজানো প্রদর্শনীও নয়। এটি বাংলাদেশের মাটি, মানুষের উদারতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। 

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরীবাড়ী এলাকায় গেলে দেখা মেলে এমনই এক বিরল দৃশ্যের। একই প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদ ও মন্দির যেন নীরবে ঘোষণা করছে—ধর্ম মানুষের আত্মিক প্রশান্তির পথ, আর সম্প্রীতি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সৌন্দর্য। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও কীভাবে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে, কীভাবে ভিন্ন বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সমাজে সৌহার্দ্য বজায় রাখা যায়, তার এক বাস্তব উদাহরণ এই চৌধুরীবাড়ী। মসজিদ ও মন্দিরের এই সহাবস্থান শুধু নাগরপুরের গর্ব নয়; এটি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার এক মূল্যবান সম্পদ। 

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ষাটের দশকের গোড়ার দিকে নাগরপুর সদরের চৌধুরীবাড়ীতে শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র প্রথমে দেবী দুর্গার একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এর অল্প কিছুদিন পর একই চত্বরে মুসলমানদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্মিত হয় চৌধুরীবাড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সেই থেকে একই প্রাঙ্গণে পাশাপাশি অবস্থান করছে দুই ধর্মের দুটি উপাসনালয়। মাঝখানে রয়েছে শুধু একটি সীমানাপ্রাচীর। কিন্তু সেই প্রাচীর মানুষের হৃদয়ের মধ্যে কোনো বিভেদের দেয়াল তৈরি করতে পারেনি। বরং সময়ের প্রবাহে এই স্থান হয়ে উঠেছে ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। 

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এই পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তাঁদের কাছে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি থাকা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়; বরং এটাই স্বাভাবিক জীবনযাপনের অংশ। এক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আয়োজন অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বিদ্বেষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহনশীলতার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে সৌহার্দ্যের এক সুদৃঢ় ভিত্তি। এই বাস্তবতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য সব মানুষের বিশ্বাসকে এক করে ফেলতে হয় না। বরং প্রত্যেকের বিশ্বাস ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে শান্তিপূর্ণ সমাজ। 

চৌধুরীবাড়ীর মসজিদ ও মন্দিরের দিকে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়ে দুটি ভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবস্থান। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, এই দৃশ্যের তাৎপর্য কেবল স্থাপত্যের পাশাপাশি অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর গভীরে রয়েছে মানুষের মানসিক উদারতা, পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক। মসজিদে মুসল্লিরা জামাতে নামাজ আদায় করেন। মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশ করেন। দুর্গাপূজার সময় মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, আবার মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোও নিজস্ব মর্যাদা ও গুরুত্ব নিয়ে পালিত হয়। প্রত্যেকে নিজের ধর্মীয় আচার পালন করেন, অন্যের ধর্মীয় অধিকারকেও সম্মান করেন। এই সহাবস্থানের সৌন্দর্য এখানেই যে, কারও ধর্মীয় পরিচয়কে অন্যের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হয় না। বরং ভিন্নতার মধ্যেই খুঁজে নেওয়া হয় একসঙ্গে বসবাসের পথ। 

আজকের পৃথিবীতে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে যখন নানা স্থানে সংঘাত, বিদ্বেষ ও বিভাজনের ঘটনা ঘটে, তখন নাগরপুরের চৌধুরীবাড়ীর এই দৃশ্য নতুন করে ভাবতে শেখায়। মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস যতই ভিন্ন হোক, পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অসম্ভব নয়। বরং সেই সহাবস্থানই হতে পারে একটি সভ্য ও মানবিক সমাজের ভিত্তি। কোনো এলাকায় মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি থাকলেই সেখানে প্রকৃত সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন দাবি করা যায় না। সম্প্রীতির প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় মানুষের আচরণে, পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতায় এবং সংকটের মুহূর্তে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়। চৌধুরীবাড়ীর বিশেষত্বও এখানেই। 

স্থানীয় মানুষের কাছে এই দুই উপাসনালয়ের সহাবস্থান দীর্ঘদিনের পরিচিত বাস্তবতা। এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই প্রাধান্য পেয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এই পরিবেশ একটি গৌরবের বিষয়। এই সম্প্রীতি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্বে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে রয়েছে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত মানসিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার প্রবণতা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতাও এ ধরনের পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূীমকা রাখে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সম্প্রীতি মানে শুধু সংঘাত না থাকা নয়; সম্প্রীতি মানে অন্যের আনন্দকে সম্মান করা, অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিকে মর্যাদা দেওয়া এবং নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্যের অধিকার সুরক্ষিত রাখার মানসিকতা। এই মূল্যবোধ যত বেশি মানুষের মধ্যে বিস্তৃত হবে, সমাজ তত বেশি স্থিতিশীল ও মানবিক হয়ে উঠবে। সাম্প্রদায়িকতা মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়কে দাঁড় করানোর চেষ্টা সামাজিক বন্ধন দুর্বল করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে বিপন্ন করে তোলে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নাগরপুরের চৌধুরীবাড়ীর মতো স্থানগুলো গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। 

এখানে মসজিদ ও মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান যেন একটি নীরব বার্তা দেয়—ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা সবারই সমান। বাংলাদেশের ইতিহাস ও সমাজজীবনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সচেতন সামাজিক অবস্থান প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিদ্বেষ ছড়ানো থেকে বিরত থাকাও জরুরি। 

চৌধুরীবাড়ীর অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সম্প্রীতি রক্ষার জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন, তবে তার পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্ব, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদেরও সক্রিয় থাকতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি সমাজ সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। চৌধুরীবাড়ীর মসজিদ-মন্দিরের সহাবস্থান শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও শিক্ষণীয়। শিশু-কিশোরেরা ছোটবেলা থেকে যদি দেখে যে ভিন্ন ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করছেন, একে অন্যের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সম্মান করছেন এবং সামাজিক প্রয়োজনে সহযোগিতা করছেন, তাহলে তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। 

এ কারণে এই স্থানকে শুধু ধর্মীয় স্থাপনার সমষ্টি হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব হবে না। এটি স্থানীয় ইতিহাস, সামাজিক ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয়ভাবে এই সম্প্রীতির ইতিহাস সংরক্ষণ করা যেতে পারে। মসজিদ ও মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের স্মৃতি প্রবীণদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সম্প্রীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবিষয়ক আলোচনা আয়োজন করা যেতে পারে। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েও এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন নয়, প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ইতিহাসভিত্তিক উপস্থাপন। 

চৌধুরীবাড়ীর প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের সহাবস্থানে। তাই এই ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ হওয়া উচিত আন্তরিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণনির্ভর। নাগরপুরের চৌধুরীবাড়ীকে বাংলাদেশের একমাত্র বা বিশ্বে বিরলতম উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তুলনামূলক তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে এমন কোনো দাবি অপরিহার্য নয়। একই প্রাঙ্গণে মসজিদ ও মন্দিরের দীর্ঘদিনের সহাবস্থানই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এটি দেখায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থাকলে ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব। এই দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ধর্মীয় নেতারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিতে পারেন। জনপ্রতিনিধিরা সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। 

প্রশাসন নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে। আর সাধারণ মানুষ প্রতিবেশীর ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্প্রীতিকে যেন কেবল বিশেষ দিবসের বক্তৃতা কিংবা আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা না হয়। দৈনন্দিন আচরণ, সামাজিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যেই সম্প্রীতির প্রকৃত চর্চা থাকতে হবে। নাগরপুরের চৌধুরীবাড়ীর মসজিদ ও মন্দির তাই আমাদের সামনে এক অনন্য বার্তা তুলে ধরে। মাঝখানে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও মানুষের হৃদয়ের মধ্যে কোনো বিভেদের দেয়াল নেই। 

একদিকে আজান, অন্যদিকে ঢাকের বোল—দুটি ভিন্ন ধর্মীয় অনুষঙ্গ, অথচ পাশাপাশি বেঁচে থাকার এক অভিন্ন মানবিক আকাঙ্ক্ষা। বাংলাদেশের শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে, মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধায় এবং সহাবস্থানের ঐতিহ্যে। সেই শক্তিকে অটুট রাখতে হলে ধর্মীয় পরিচয়কে বিভেদের অস্ত্র নয়, বরং পরস্পরের বিশ্বাসকে জানার ও সম্মান করার সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। চৌধুরীবাড়ীর এই সম্প্রীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—উপাসনালয় আলাদা হতে পারে, প্রার্থনার ধরন আলাদা হতে পারে, কিন্তু শান্তি, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা সব মানুষেরই এক। ধর্ম যার যার, কিন্তু সম্প্রীতি সবার। আর এই সম্প্রীতিই হোক আগামী দিনের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

2 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

Bangladesh: ইমক্যাবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আশ্বাস হাইকমিশনারের
বিদেশ

Bangladesh: ইমক্যাবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আশ্বাস...

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২২ ...

২৫ অক্টো ২০২৬, ০৭:২১ পিএম · 2 মিনিট
Bangladesh : বাংলাদেশে সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’র সাথে ইউপিডিএফের গোলাগুলি
বিদেশ

Bangladesh : বাংলাদেশে সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’র সাথে ইউপিডিএফের গোলাগুলি

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়ন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাজে...

২৫ অক্টো ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম · 6 মিনিট
Marathon Fusion: ‘আলকেমির’ স্বপ্নপূরণের দাবি মার্কিন সংস্থার
বিদেশ

Marathon Fusion: ‘আলকেমির’ স্বপ্নপূরণের দাবি মার্কিন সংস্থার

ওয়াশিংটন: পারদকে সোনায় পরিণত করা যায়? এক সময় যা ছিল আলকেমির সাধকদের স্বপ্ন, এ বার সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করার দাবি করল আমেরিকার এক প্রযুক্তি সংস্থা। তাদের দাবি, নিউক্লিয়ার ফিউশন থেকে উৎপন্ন নিউট্রন ব্যবহার করে পারদ থেকে তৈর...

২৫ অক্টো ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম · 4 মিনিট
France Protest: বাড়িভাড়া, মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি- ক্ষোভে উত্তাল ইউরোপ!
বিদেশ

France Protest: বাড়িভাড়া, মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি- ক্ষোভে উত্তাল ইউরোপ!

ফ্রান্স: ইউরোপের রাজপথে বাড়ছে বিক্ষোভের আঁচ। কোথাও আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, কোথাও জীবনযাত্রার বিপুল খরচ, আবার কোথাও দুর্নীতি ও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ—বিভিন্ন দাবিতে উত্তাল ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগাল। ...

২৫ অক্টো ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম · 5 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.