নয়াদিল্লি: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী ডিসেম্বরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য ব্রাসেলস সফরের সময় এই চুক্তিতে সই হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্রের খবর, আগামী ১৭ বা ১৮ ডিসেম্বর ব্রাসেলসে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। আমেরিকার মায়ামিতে প্রস্তাবিত জি২০ বৈঠকে যোগ দিয়ে ফেরার পথে মোদী ব্রাসেলস সফর করতে পারেন। যদিও তাঁর সফরসূচি এবং চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সীমা এখনও চূড়ান্ত নয়।
চুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে উদ্যোগী হয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্বকারী কাউন্সিলের কাছে দ্রুত অনুমোদনের জন্য বিশেষ পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। সাধারণত ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় চুক্তির অনুবাদ সম্পূর্ণ করতে দীর্ঘ সময় লাগে। সেই অপেক্ষা এড়িয়ে মূল ইংরেজি নথির ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, চুক্তির বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা মেটাতে চলতি সপ্তাহে ব্রাসেলস যেতে পারেন ভারতের বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়াল। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের ইউরোপ সফরেও এই চুক্তির সম্ভাবনা এবং গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে দুই পক্ষের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভারতীয় পণ্য ইউরোপের বাজারে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বিশেষত বস্ত্র, রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, ধাতু এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আশা রয়েছে।
২০২৫ সালে ভারত ও ইইউ-এর মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ইউরো। পরিষেবা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৭ বিলিয়ন ইউরো। ফলে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক বাজারগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হতে পারে।
২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার পর্যায়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছিল। এবার লক্ষ্য, বছরের শেষের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন করা। সব প্রক্রিয়া ঠিকমতো এগোলে ২০২৭ সালের প্রথম দিকেই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি।




