নিউজ ডেস্ক: ভোট আসে, ভোট যায়। বদলায় সরকার, বদলায় রাজনৈতিক সমীকরণও। কিন্তু চেল নদীর ওপর পাকা সেতু তৈরির স্বপ্ন আজও অধরা জলপাইগুড়ির ক্রান্তির বাসিন্দাদের কাছে। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করল ক্রান্তির নাগরিক মঞ্চ। সেতু নির্মাণের দাবিতে আগামী ২২ নভেম্বর ক্রান্তির কাঠালগুড়িতে নাগরিক কনভেনশনের ডাক দিয়েছেন পদ্মশ্রী প্রাপক সমাজসেবী করিমূল হক-সহ মঞ্চের সদস্যরা।
রবিবার চেল নদীর তীরেই খোলা আকাশের নীচে বৈঠকে বসেন নাগরিক মঞ্চের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের সভাপতি করিমূল হক, সম্পাদক মহম্মদ নূর নবিউল ইসলাম, সহ-সভাপতি বিনয় রায়-সহ অন্যান্য সদস্যরা। বৈঠক থেকেই আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, এই কনভেনশনে দলমত নির্বিশেষে ক্রান্তি ও মালবাজার ব্লকের সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ও মালবাজার ব্লকের মধ্যে যোগাযোগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে চেল নদী। নদীর উপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দুই এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ক্রান্তি এলাকার ছয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের মালবাজার মহকুমা শাসকের দফতর, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কিংবা কলেজে পৌঁছতে অনেকটা ঘুরপথে যেতে হয়। গরুমারার জঙ্গলপথ ধরে যাতায়াত করতে গিয়ে বাড়ে দূরত্ব ও সময়।
স্থানীয়দের দাবি, চেল নদীর ওপর পাকা সেতু তৈরি হলে মালবাজার থেকে ক্রান্তির দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার থেকে কমে ১৬ কিলোমিটারের কাছাকাছি হয়ে আসবে। এতে শুধু যাতায়াতের সময়ই বাঁচবে না, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং প্রশাসনিক পরিষেবা পাওয়াও অনেক সহজ হবে।
বর্তমানে শুকনো মরশুমে নদীতে জল কম থাকায় অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেন অনেকে। কিন্তু বর্ষায় নদীর জল বাড়লে এবং স্রোত তীব্র হলে সেই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্ষার সময় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকেন নদীপারের বাসিন্দারা।
নাগরিক মঞ্চের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বারবার মিললেও বাস্তবে কাজ এগোয়নি। তাঁদের দাবি, বাম আমলে নদী পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের আর অগ্রগতি হয়নি। তৃণমূল আমলে ঘটা করে সেতুর শিলান্যাস করা হলেও নির্মাণকাজ শেষ পর্যন্ত শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পদ্মশ্রী করিমূল হক। দুই সরকারের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সরকার রশি কিনে রাখছে, কিন্তু গরু কেনেনি।” তবে বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে সেতুর দাবি পূরণ হবে বলে আশাবাদী তিনি। একই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
জানা গিয়েছে, এই সেতু নির্মাণের দাবিতে ইতিমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছেন মালবাজারের বিধায়ক শুক্রা মুণ্ডা। বিধানসভা অধিবেশনেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি। তবে কবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এখন নজর ২২ নভেম্বরের নাগরিক কনভেনশনের দিকে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সেখান থেকে কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, তা নিয়েই অপেক্ষায় ক্রান্তির বাসিন্দারা। প্রতিশ্রুতির বৃত্ত ভেঙে এবার কি সত্যিই চেল নদীর ওপর তৈরি হবে পাকা সেতু, নাকি ফের আন্দোলনের পথেই হাঁটতে হবে তাঁদের—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।




