নিউজ ডেস্ক: আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। কোজাগরী পূর্ণিমার সন্ধ্যায় বা রাতে প্রায় প্রতিটি বাঙালি হিন্দুর বাড়িতে লক্ষ্মীদেবীর পুজো করা হয়। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন ভক্তরা। মহানায়ক উত্তম কুমারের বাড়িতে জাঁক জমকের সঙ্গে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালন করা হয়। আজও একই নিয়ম মেনে সেই পুজো করে চলেছে বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা।
ইতিমধ্যে, পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে উত্তমকুমার বাড়িতে। প্রত্যেক বছরের মতো বড় দায়িত্বে থাকেন দেবলীনা কুমার। সম্পর্কে মহানায়ক উত্তম কুমারের নাতবউ। বাপেরবাড়ি আর শ্বশুরবাড়ি দু’দিকের পুজোতেই থাকতে হয় অভিনেত্রীকে। নিজের হাতেই আয়োজন করেন। তাঁর বাড়ির পুজোয়, প্রত্যেক বছর নাড়ু হবেই হবে। পাশাপাশি, আয়োজন করা হয়েছে লুচি, ছোলার ডাল, পাঁচ রকমের ভাজা, পোলাও, কাশ্মিরী আলুর দম, ভিন্ডি মাশালা, ছানার ডালনা, চাটনি, পায়েস, নাড়ু ও সন্দেশ। এই দিনটা সবার জন্যই খোলা উত্তমকুমারের বাড়ির দরজা। উত্তমকুমার এবং গৌরীদেবী নিজের হাতে পরিবেশন করতেন। সেই দায়িত্ব আজও মেনে চলেন গৌরব-দেবলীনা-সহ বাড়ির প্রত্যেক সদস্য।
এই বাড়ির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল মূর্তি। মা লক্ষ্মীর মুখ অবিকল উত্তম কুমারের স্ত্রী গৌরী দেবীর আদলে তৈরি হয়। ১৯৫০ সালে নিজের ভবানীপুরোর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো শুরু করেছিলেন উত্তমকুমার। সেই বছরেই জন্ম ছেলে গৌতমের। এরপর মহানায়কের বাড়ির পুজো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টলিউডের অন্যতম পারিবারিক উৎসবে পরিণত হয়। মহানায়কের বাড়ির পুজোতে মা লক্ষ্মীর একটি বিশেষত্ব রয়েছে। সেই পরম্পরা আজও মেনে চলা হয়। অতিথি থেকে শুরু করে অভিনেতা, অভিনেত্রী, প্রযোজক, গায়কদের আগমণে ভরে থাকে বাড়ি। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য মেনেই উত্তমকুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে।




