নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের আঁকাবাঁকা খাঁদ বেয়ে নেমে আসছে এক অন্তহীন লাল মিছিল। শয়ে শয়ে জিপ, লরি, ট্র্যাক্টর আর টেম্পো। হর্নের আওয়াজ ছাপিয়ে পাহাড়ের বুক চিরে উঠছে স্লোগান ‘লাঙ্গল যার, জমি তার’, ‘ফসলের ক্ষতিপূরণ অবিলম্বে দিতে হবে’। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কাসারা ঘাট সাক্ষী থাকল এমনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিটেমাটি আর ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য হিসেব চাইতে ফের রাজধানী মুম্বইয়ের রাজপথে নেমেছেন অন্নদাতারা।
আহমেদনগর জেলার আকোলে থেকে শুরু হওয়া অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার ডাকা ‘ভেহিকল লং মার্চ’ দ্বিতীয় দিনে পৌঁছতেই গতি ও শক্তি দুই-ই বাড়ল বহুগুণ। নাসিক পেরিয়ে মুম্বইয়ের দিকে এগোতে থাকা এই বিশাল কনভয়ে শামিল হয়েছেন রাজ্যের কুড়িটিরও বেশি জেলার প্রায় বারো হাজার কৃষক ও খেতমজুর। সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘বর্ষা বাংলো’ ঘেরাও করে সরকারের চোখে চোখ রেখে দাবি আদায় করাই এখন তাঁদের লক্ষ্য।
https://x.com/cpimspeak/status/2114995883469377593
মিছিলের অগ্রভাগে রয়েছেন কিষাণ সভার শীর্ষ নেতৃত্ব সর্বভারতীয় সভাপতি অশোক ধাওয়ালে, সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণন এবং যুগ্ম সম্পাদক অজিত নাওয়ালে। তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাসারা ঘাটের চড়াই-উতরাই ভাঙছেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি যশবন্ত ঝাড়ে, সম্পাদক উমেশ দেশমুখ, প্রবীণ কৃষক নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি জে পি গাভিত এবং সিপিআই(এম) বিধায়ক বিনোদ নিকোলে।
বিক্ষোভরত কৃষকদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের জমে থাকা বঞ্চনার ফসল। মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে খরার প্রভাবে মাঠের পর মাঠ শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। চাষিদের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে হাজারো আর্জি জানিয়েও মেলেনি খরাত্রাণের কানাকড়ি। একই হাল ফসল বিমার ক্ষেত্রেও, মার খাওয়া ফসলের ক্ষতিপূরণ আজও তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি।
কৃষকদের অন্যতম মূল দাবি, যাঁরা নিয়ম মেনে নিয়মিত কৃষিঋণ শোধ করেছেন, তাঁদের জন্য অবিলম্বে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মকুবের ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে বছরের পর বছর যে সমস্ত আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষ বনভূমি ও খাস জমিতে চাষ করছেন, তাঁদের হাতে অবিলম্বে পাট্টা তুলে দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।
শুধু ফসলের দাম বা ঋণ নয়, গ্রামীণ খেতমজুর এবং প্রকল্প কর্মীদের জন্য উপযুক্ত মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নেও সরব হয়েছে এই লং মার্চ। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ‘নমো শেতকারী মহাসম্মান নিধি যোজনা’ এবং ‘লাডলি বহেনা’ প্রকল্পের যে আর্থিক সহায়তা নানা অজুহাতে আটকে রয়েছে, তা অবিলম্বে চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে পৌঁছনোর আগে কৃষকদের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে আর চলবে না, এবার চাই লিখিত ফয়সালা। কাসারা ঘাট পার করে মুম্বইয়ের প্রবেশদ্বারে পৌঁছে যাওয়া এই জনসমুদ্রকে সরকার কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য প্রশাসন।




