নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সরাসরি প্রভাব পড়ল ওড়িশার উপকূলবর্তী তীর্থনগরী পুরীতে। টানা ভারী বৃষ্টির জেরে কার্যত স্তব্ধ সৈকত শহর। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলের তলায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে জগন্নাথ ধামে আসা হাজার হাজার পুণ্যার্থী। মন্দির চত্বর এবং সংলগ্ন প্রধান রাস্তাগুলোতে জল জমে যাওয়ায় দেবদর্শনে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে গত রাত থেকেই পুরী ও তার পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয় একটানা মুষলধারে বৃষ্টি। সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। সকাল হতে না হতেই পুরী শহরের গ্র্যান্ড রোড বা ‘বড়ডাণ্ডা’, ভিআইপি রোড এবং একাধিক নিচু এলাকা জলের তলায় চলে যায়। পুরী শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের চারপাশের গলিপথগুলোতেও কোথাও গোড়ালি, কোথাও আবার হাঁটু সমান জল জমে যায়। বহু জায়গায় নিকাশি নালা উপচে নোংরা জল রাস্তায় উঠে আসায় পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হয়ে উঠেছে।
https://x.com/ANI/status/2114940125197312424?s=20
এই দুর্যোগের মাঝেই নিজেদের সামলে মন্দিরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের নিয়ে আসা পরিবারগুলি পড়েছে প্রবল বিপাকে। অনেক ভক্তকে জুতো হাতে, জামাকাপড় গুটিয়ে হাঁটু জল ভেঙে মন্দিরের সিংহদুয়ারের দিকে এগোতে দেখা যায়।
এক পুণ্যার্থীর কথায়, "অনেক দিন আগে থেকে ট্রেনের টিকিট আর হোটেল বুক করা ছিল। কিন্তু শহরে পৌঁছে দেখি সব রাস্তা ভাসছে। গাড়ি চলার উপায় নেই। অগত্যা এই নোংরা জল ভেঙেই ঠাকুর দর্শনে যেতে হচ্ছে।" অনেকেই বৃষ্টির তোড়ে মন্দিরের নাটমন্দির ও তোরণের নিচে দীর্ঘক্ষণ আশ্রয় নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
বৃষ্টির কারণে শহরের যান চলাচল প্রায় বিপর্যস্ত। অটোরিকশা বা টোটো চালকেরা জলমগ্ন রাস্তায় নামতে না চাওয়ায় যাতায়াতের সমস্যা আরও বেড়েছে। সমুদ্রও উত্তাল থাকায় পর্যটকদের সৈকতে যাওয়ার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয়েছে পুরী পুরসভা ও জেলা প্রশাসন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং মন্দির চত্বর থেকে দ্রুত জল নামাতে নামানো হয়েছে অতিরিক্ত পাম্প। নিকাশি পথগুলো পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। তবে একটানা বৃষ্টি চলতে থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্যোগের মেঘ না কাটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।




