থেনি: রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকাই হুলস্থুল জেলের ভিতরে। এক বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন— এমন খবর পেয়ে সেলে ঢুকেছিলেন জেলকর্মীরা। অভিযোগ, সেই সুযোগেই তাঁদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন বন্দিরা। নিরাপত্তারক্ষীদের কাবু করে তার পর একসঙ্গে ১৭ জনের উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তামিলনাড়ুতে। রাতের অন্ধকারে কী ভাবে জেলের নিরাপত্তা ভেঙে এত জন বন্দি পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এক জনকে গ্রেফতার করা গেলেও বাকিদের এখনও নাগাল পাননি তদন্তকারীরা।
ঘটনাটি তামিলনাড়ুর থেনি জেলার একটি সাব-জেলের। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে ওই জেলের একটি সেলে থাকা বন্দিদের মধ্যে এক জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর যায় জেলকর্মীদের কাছে। বন্দির শারীরিক অবস্থা দেখতে সেলে প্রবেশ করেন তাঁরা। অভিযোগ, সেই সময়ই আচমকা জেলকর্মীদের উপর হামলা চালান বন্দিরা। তাঁদের কাবু করে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে পালিয়ে যান ১৭ জন।
অসুস্থতার খবরটি কি নিছকই অজুহাত ছিল? নাকি জেলকর্মীদের সেলের ভিতরে ডেকে আনার পিছনে আগে থেকেই কোনও পরিকল্পনা ছিল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তবে বন্দিরা আগে থেকে পালানোর ছক কষেছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পলাতকদের খোঁজে বিশেষ দল
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। এক জন বন্দিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি ১৬ জনের খোঁজে গঠন করা হয়েছে ১৭টি বিশেষ দল। পলাতকেরা যাতে অন্য জেলায় কিংবা প্রতিবেশী রাজ্যে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তল্লাশির আওতায় রয়েছে থেনি জেলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও। মাদুরাই এবং কেরলের ইদুক্কি জেলার পুলিশকেও সতর্ক করা হয়েছে বলে খবর। বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিকের কাছে পলাতক বন্দিদের ছবি পাঠানো হয়েছে, যাতে তাঁদের শনাক্ত করতে সুবিধা হয়। রাস্তায় যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি সম্ভাব্য পালানোর পথগুলিতেও নজর রাখছেন তদন্তকারীরা।
নিরাপত্তায় গাফিলতি, উঠছে প্রশ্ন
একটি জেল থেকে একসঙ্গে এত জন বন্দি কী ভাবে পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে। জেলের ভিতরে নজরদারির ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল? বন্দিরা হামলা চালানোর পর নিরাপত্তারক্ষীরা কেন তাঁদের আটকাতে পারলেন না? পালানোর ঘটনায় জেলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনও ফাঁক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, পলাতকেরা আগে থেকেই নিজেদের মধ্যে কোনও পরিকল্পনা করেছিলেন কি না এবং জেলের বাইরে তাঁদের সাহায্য করার মতো কেউ রয়েছেন কি না। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
রাতের অন্ধকারে একসঙ্গে ১৭ জন বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রশাসনের কাছে বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আপাতত পলাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। তাঁদের সন্ধান মিললে কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং জেলের নিরাপত্তা ভেঙে পালানোর পিছনে ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল, তা আরও স্পষ্ট হতে পারে।




