নিউজ ডেস্ক : রাত নামতেই ঘনিয়ে এসেছিল বিপদের আশঙ্কা। মাটির গভীরে আটকে থাকা মানুষগুলিকে ঘিরে ক্রমশ বাড়ছিল উদ্বেগ। কখন কাটবে এই অনিশ্চয়তা, কখন আবার নিরাপদে উপরে উঠে আসবেন তাঁরা, সেই অপেক্ষাতেই কাটে দীর্ঘ রাত। খনির ভিতরে চলতে থাকা পরিস্থিতির ওপর নজর ছিল সকলের। অবশেষে ভোরের আলো ফোটার আগেই কাটলো উৎকণ্ঠার দীর্ঘ প্রহর। স্বস্তির খবর আসতেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর কুমারডিহি 'এ' কোলিয়ারির। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ডুলির তারে গোলযোগ দেখা দেওয়ায় খনির প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটকে পড়েন ইস্টার্ন কোল ফিল্ডস লিমিটেডের ১৪ জন কর্মী। আচমকা এই বিপর্যয়ে খনির ভিতরে ও বাইরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিভাবে আটক পরা শ্রমিকদের নিরাপদে উপরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়, তা নিয়ে শুরু হয় তৎপরতা।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘন্টা ধরে চলে উৎকণ্ঠার পরিস্থিতি। খনির গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটা মুহূর্ত যেন ছিল উদ্বেগে ভরা। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা নাগাদ উদ্ধার করা সম্ভব হয় চোদ্দ জন শ্রমিককে। তাঁদের উদ্ধারের খবর সামনে আসতে স্বস্তি ফেরে শ্রমিক মহলে। দীর্ঘ রাতের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটে।
কোলিয়ারি সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক শ্রমিকই সুস্থ রয়েছেন। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বড় কোনও শারীরিক বিপদের খবর না থাকলেও, এমন ঘটনার পর শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে, এই ঘটনায় আপাতত স্বস্তি ফিরলেও খনির ভিতরে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ডুলির তারে কি কারনে গোলযোগ দেখা দিয়েছিল, যন্ত্রপাতির রক্ষনাবেক্ষনে কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন শ্রমিকদের একাংশ। কারণ কয়লা খনির গভীরে কাজ করার সময় সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি ও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শ্রমিক মহলের দাবি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে খনির যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং দ্রুত উদ্ধারকার্যের উপযুক্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। ১৪ জন শ্রমিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে আপাতত স্বস্তি মিললেও, এই ঘটনা খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি করল।




