নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া যুবকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে ২৩ বছর বয়সি অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের। পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় সে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। সেই গুলিতেই জখম হয় অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বারুইপুরের ঘটনার পর গাইঘাটাতেও অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর সামনে আসায় পুলিশের ভূমিকা এবং গোটা ঘটনার তদন্ত নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
জলসা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, পরদিন উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ অক্টোবর রাতে। গাইঘাটার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী পাড়ার জলসা দেখতে গিয়েছিল। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ একটি ফোন আসার পর সে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও মেয়েটি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বন্ধু ও পরিচিতদের কাছেও খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু রাতভর চেষ্টা করেও তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির পিছনের উঠোনে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা যায়। এরপরই ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত ছাত্রীর আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েই গুলির লড়াই?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুলিশি সূত্রের দাবি, সেই সময় অভিযুক্ত পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে অভিযুক্ত জখম হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বলে খবর।
তবে এনকাউন্টারের পরিস্থিতি, গুলি চালানোর প্রকৃত কারণ এবং পুলিশের পদক্ষেপের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল সামনে না আসা পর্যন্ত সমস্ত তথ্যকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
তদন্ত ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন
এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নাবালিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করা। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অন্য কেউ এই ঘটনায় জড়িত কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।
এখন অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় তদন্তের স্বচ্ছতা এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। নাবালিকার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এনকাউন্টারের পরিস্থিতিও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। এই ঘটনায় প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং তদন্তের পরবর্তী তথ্য সামনে এলে গোটা বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।




