নিউজ ডেস্ক : একটা চাকরির আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষা। কখনও আশ্বাস, কখনও নতুন করে ভরসা এভাবেই কেটে গিয়েছে দীর্ঘ সময়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওঠে হুমকির অভিযোগ। সেই ঘটনাকে ঘিরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে শুরু হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা।
প্রাথমিক স্কুলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন শেখ শাহিদ হোসেন। তিনি কুলপি থানার অন্তর্গত শ্যামবস চক কালিতলা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে কুলপি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার ফৌজদারি আদালতে পেশ করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৮ সালে প্রাথমিক স্কুলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শাহিদ হোসেন। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ লক্ষ টাকা দেন বলে অভিযোগ। চাকরি পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের কারও চাকরি হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
এরপরই নিজেদের টাকা ফেরত চেয়ে শাহিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। অভিযোগ, টাকা ফেরত চাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। টাকা ফেরত দেওয়ার বদলে অভিযোগকারীদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ধৃত শেখ শাহিদ হোসেন তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। যদিও তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ওঠা এই দাবি সত্য কি না এবং অভিযোগের সঙ্গে তার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। চাকরির নামে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে।
ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে কুলপি থানার পুলিশ। ঠিক কত জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল, মোট টাকার পরিমান কত এবং অভিযোগের পিছনে আরও কোনও ব্যক্তি জড়িয়ে রয়েছে কি না, তদন্তে সেই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে শাহিদ শেখ হোসেন এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পরেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।




