মালদা: গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ভয়াবহ ভাঙন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে মালদার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। বর্ষা এলেই নদীগর্ভে তলিয়ে যায় জমি, ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হন বহু পরিবার। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বড়সড় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানাল রাজ্য প্রশাসন। নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী জানুয়ারি থেকেই কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
গঙ্গা-ফুলহার মিশে গেলে কী হবে?
মালদার ভুতনি ও রতুয়া এলাকায় গঙ্গা এবং ফুলহার নদীর গতিপথ পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যসচিব। তাঁর বক্তব্য, গত প্রায় ৫০ বছরে ভুতনি এলাকায় গঙ্গার গতিপথ প্রায় ছয় কিলোমিটার সরে গিয়েছে। অন্যদিকে, ফুলহার নদীর গতিপথেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে কয়েকটি এলাকায় দুই নদী অনেকটাই কাছাকাছি চলে এসেছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, নদী দু’টির গতিপথের এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে বড়সড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মালদার বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫০ কোটি টাকার পরিকল্পনা, কোথায় হবে কাজ?
মুখ্যসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, মালদার মানিকচক থেকে দূরবর্তী নদীপাড়ের এলাকাগুলিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিহার সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি পাওয়া গেলেও ঝাড়খণ্ডের অনুমতির অপেক্ষা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পুরনো নদীখাত দিয়ে জলপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য নদীখাতের সংস্কার ও ড্রেসিংয়ের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কাজের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমেও সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
দিল্লিতে বৈঠক, নজর কেন্দ্রের দিকেও
মালদার নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। তাঁর বক্তব্য, ঝাড়খণ্ডের প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেলে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে সুবিধা হবে।
এদিকে, উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুও নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তবে পরিকল্পনা বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তা নিয়ে এখন নজর মালদাবাসীর। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে যাঁরা জমি ও বাড়ি হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং বসতভিটে ও জীবিকা রক্ষার লড়াই। ঘোষিত পরিকল্পনা নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হলে মালদার নদীভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।




