নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা ঘিরে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে সতর্কতা জারি হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের মোকাবিলায় ওড়িশার পাঁচটি জেলায় ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে, এমন কোনও ঘোষণা এই তথ্যের মধ্যে নেই।
২৮ অক্টোবর আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াতে পারে। সেটি গভীর নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। সম্ভাব্য গতিপথ অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে ঝড়টি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত গতিপথ ও তীব্রতা জানতে আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিনের উপর নজর রাখা জরুরি।
ওড়িশার পাঁচ জেলায় রেড অ্যালার্ট
সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় ওড়িশার গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট এবং মালকানগিরি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কিছু এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ওই পাঁচ জেলায় স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল ও দমকলকর্মীদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা, জল জমা এবং ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে।
তামিলনাড়ুতেও স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির খবর পাওয়া গিয়েছে। চেন্নাই-সহ একাধিক জায়গায় জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে ২৬ অক্টোবর তামিলনাড়ুর দশটিরও বেশি জেলায় স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলার স্কুল কি বন্ধ থাকবে?
এই মুহূর্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার কোনও নির্দেশের উল্লেখ নেই। তাই শুধু ঘূর্ণিঝড়ের খবরের ভিত্তিতে বাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রাজ্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া দফতরের সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ পরিবর্তিত হলে সতর্কতার মাত্রাও বদলাতে পারে। তাই আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়ার আপডেট এবং প্রশাসনের নির্দেশের দিকে নজর রাখুন।




