নিউজ ডেস্ক: পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থী সেজে ঢুকে দুর্গা প্রতিমার সোনার গয়না চুরির অভিযোগ। ঠাকুর দেখতে আসার নাম করে প্রতিমার কপালের সোনার টিপ ও নাকছাবি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে চুরি করে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের জোড়াবাগান থানার পুলিশ। ঘটনাটি উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান এলাকার গৌর লাহা স্ট্রিটের একটি বারোয়ারি দুর্গাপুজোর।
পুজো মণ্ডপে গয়না উধাও, চাঞ্চল্য
জানা গিয়েছে, ওই পুজো মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমাকে সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছিল। পুজো চলাকালীনই হঠাৎ নজরে আসে, প্রতিমার কপালের সোনার টিপ বা বিন্দি এবং নাকছাবি আর নেই। মুহূর্তের মধ্যে মণ্ডপে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কে বা কারা এই গয়না চুরি করল, তা নিয়ে শুরু হয় খোঁজখবর।
এর পরেই জোড়াবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পুজো কমিটির সদস্যরা। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দর্শনার্থী সেজে মণ্ডপে প্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ। প্রতিমার গয়নাগুলি সোনার তৈরি, তা বুঝতে পেরে সে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।
ফাঁকা মণ্ডপের সুযোগেই চুরি?
তদন্তে উঠে এসেছে, রাতে মণ্ডপ ফাঁকা হওয়ার সুযোগ খুঁজছিল অভিযুক্ত। পুজো কমিটির সদস্যরা যখন কিছুক্ষণের জন্য নজরদারি থেকে সরে যান, সেই সময় প্রতিমার সামনে গিয়ে সোনার টিপ ও নাকছাবি খুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর পর মুখ ঢেকে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে।
পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিমার গয়নার নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছে আলাদা করে আবেদন করা হয়নি। নিজেদের নজরদারিতেই গয়নাগুলি সুরক্ষিত রাখা যাবে বলে তাঁরা মনে করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নজরদারি যথেষ্ট হয়নি।
সিসিটিভি ফুটেজেই মিলল সূত্র
অভিযোগ পাওয়ার পর মণ্ডপের আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেই ফুটেজ থেকেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার সূত্র মেলে। পরে তল্লাশি চালিয়ে গোপাল কেলটিবিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর আগে শহরের অন্য কোনও মন্দির বা পুজো মণ্ডপে একই ধরনের চুরির ঘটনায় সে জড়িত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গয়নার নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
চলতি বছরে কলকাতার একাধিক দুর্গাপুজো মণ্ডপে সোনা ও রুপোর গয়নায় প্রতিমা সাজানো হয়েছিল। কয়েকটি মণ্ডপে নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশকর্মীও মোতায়েন করা হয়। তবে গৌর লাহা স্ট্রিটের ওই পুজোয় পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর পুজো মণ্ডপে মূল্যবান গয়না রাখার ক্ষেত্রে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে চুরির সম্পূর্ণ ঘটনা এবং গয়নাগুলির পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।




