নিউজ ডেস্ক: এক সম্পর্ক, একই বাড়ি, অথচ ঘুমানোর ঘর আলাদা! শুনতে অবাক লাগলেও আধুনিক জীবনযাপনে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেক দম্পতি। সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি বাড়ার কারণে নয়, বরং ভালো ঘুম এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্যই অনেকে বেছে নিচ্ছেন ‘Sleep Divorce’ বা আলাদা ঘরে ঘুমানোর অভ্যাস। কিন্তু সত্যিই কি আলাদা ঘরে ঘুমোলে সম্পর্ক ভালো থাকে?
প্রথমেই জানা দরকার, Sleep Divorce বলতে আইনি বিচ্ছেদ বোঝায় না। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দম্পতিরা সম্পর্কে থেকেও নিজেদের ঘুমের জন্য আলাদা ঘর বা আলাদা বিছানা বেছে নেন।
এর পিছনে রয়েছে একাধিক বাস্তব কারণ। কারও সকালে তাড়াতাড়ি উঠে পড়তে হয় , কেউ আবার ঘুমের মধ্যে বারবার পাশ ফেরেন। কারও রাতে দেরি করে ঘুমোনোর অভ্যাস, আবার কারও সঙ্গী জোরে নাক ডাকেন । ফলে একই বিছানায় ঘুমলেও দু’জনের ঘুমের ঘাটতি হতে পারে।
আর ঘুম ঠিক না হলে পরের দিন ক্লান্তি, বিরক্তি, মনোযোগের অভাব এবং মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা চললে দৈনন্দিন জীবনেও তার প্রভাব পড়ে। তাই কিছু দম্পতি মনে করেন, আলাদা ঘুমিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেলে তাঁরা দিনের বেলায় আরও সতেজ এবং সম্পর্কের প্রতি মনোযোগী থাকতে পারেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আলাদা ঘরে ঘুমোলেই যে সম্পর্কের সমস্যা মিটে যাবে, এমন কিন্তু নই । সম্পর্কের মধ্যে অভিমান, যোগাযোগের অভাব বা মানসিক দূরত্ব থাকলে সেগুলির সমাধানের জন্য খোলামেলা আলোচনা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দু’জনের চাহিদা, অনুভূতি এবং প্রত্যাশা নিয়ে একে ওপরের সাথে কথা বলা উচিত। আলাদা ঘরে ঘুমিয়েও একসঙ্গে সময় কাটানো, গল্প করা এবং আবেগের সংযোগ বজায় রাখা সম্ভব।
ভালোবাসার প্রমাণ সব সময় একই বিছানায় ঘুমানো নয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং দু’জনের ভালো থাকা।




