নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে সারা পৃথিবীতে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশেও। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা এসির ব্যবহার। বাইরের প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি, এসির অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশের আবহাওয়া যথেষ্ট গরম ও আর্দ্র হওয়ায় এয়ার কন্ডিশনারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সিলিং ফ্যান ঘরের তাপমাত্রা কমায় না; বরং ত্বকের ঘাম বাষ্পীভূত হওয়ার হার বাড়িয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, এসি দ্রুত ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বাইরে গরম হাওয়া বইলেও ঘরের ভেতরে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব এসির মাধ্যমে। তাই তাপমাত্রা বা আর্দ্রতা অত্যধিক বেশি হলে শুধু ফ্যানের হাওয়া যথেষ্ট হয় না।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে আমাদের দেশেও তাপমাত্রা বাড়ছে। প্রতিবছরই তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে অনেকের কাছেই এসি এখন প্রায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে দিন দিন বাড়ছে এসির চাহিদা।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে তাপ ও আর্দ্রতা অপসারণ করে এটাই ঘর ঠান্ডা করার মূল প্রক্রিয়া। এসির সাধারণত দুটি ইউনিট থাকে একটি ঘরের ভেতরে, যাকে ‘ইনডোর ইউনিট’ বলা হয়, এবং অন্যটি ঘরের বাইরে, যাকে ‘আউটডোর ইউনিট’ বলা হয়। ইনডোর ইউনিট ঘরের গরম বাতাস টেনে নিয়ে ঠান্ডা ইভাপোরেটর কয়েলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত করে। এই কয়েলের মধ্যে থাকা রেফ্রিজারেন্ট তাপ শোষণ করে বাষ্পে পরিণত হয়। এর ফলে বাতাস ঠান্ডা হয়। এসির ভেতরে থাকা ফ্যান সেই ঠান্ডা বাতাসকে ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।
তাপ শোষণ করে গরম হয়ে যাওয়া রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস আউটডোর ইউনিটে যায়। সেখানে শোষিত তাপ বাইরে বের করে দিয়ে রেফ্রিজারেন্ট পুনরায় তরলে পরিণত হয়। এভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি বারবার চলতে থাকে এবং ঘর ঠান্ডা হয়।
কিন্তু অতিরিক্ত এসি ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। এসি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে নেওয়ায় ত্বক ও চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ফলে ত্বকে খসখসে ভাব ও চুলকানি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি চোখে অস্বস্তি, জ্বালা বা চুলকানিও হতে পারে।
দীর্ঘ সময় এসির মধ্যে থাকলে কম আর্দ্রতাযুক্ত বাতাস নাক ও গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লি শুকিয়ে দিতে পারে। এর ফলে নাকে অস্বস্তি, শুষ্কতা, গলাব্যথা বা গলায় খুসখুসে অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এসির ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে কারও কারও মাথাব্যথাও হতে পারে। সাইনুসাইটিস বা অ্যাজমায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা তাপমাত্রার পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখা জরুরি। ঠিকমতো পরিষ্কার ও সার্ভিসিং না করা হলে এসির ফিল্টার ও অন্যান্য অংশে ধুলোবালি, ছত্রাক এবং জীবাণু জমতে পারে। এর ফলে ঘরের বাতাসের গুণমান খারাপ হতে পারে এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষত রাতে এসির তাপমাত্রা অত্যন্ত কম রাখা হলে বা বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ঠান্ডা বাতাস সরাসরি ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে লাগলে কিছু মানুষের মাংসপেশিতে অস্বস্তি বা শক্তভাব তৈরি হতে পারে। ফলে এসি-চালিত ঘরে দীর্ঘ সময় কাজ করা ব্যক্তিদের ঘাড় ও পিঠে ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে।




