শ্রীনগর: ‘পাকিস্তান আমাদের রক্ষা করছে’ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহর এমন মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তাঁর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছে গেরুয়া শিবির। কাশ্মীরের পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ফারুকের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতর।
কী বলেছেন ফারুক আবদুল্লাহ?
বারামুলায় দলের কর্মীদের একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফারুক আবদুল্লাহ দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার কাশ্মীর সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের এই অবস্থানের কারণেই কাশ্মীরের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনায় থাকছে।
ফারুকের অভিযোগ, কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর সংশয় রয়েছে। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক মহলে চাপ তৈরি হওয়ার কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত।
কাশ্মীরের মানুষকে কী বার্তা দিলেন?
সভায় জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফারুক আবদুল্লাহ। তাঁর বক্তব্য, মানুষ সরকারের কাছ থেকে আদৌ বিচার পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি, নিজেদের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সাহস নিয়ে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
কেন ক্ষুব্ধ বিজেপি?
ফারুক আবদুল্লাহর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীর বিজেপির সভাপতি সত শর্মা। তাঁর বক্তব্য, ভারতে নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে বলেই ফারুক এমন মন্তব্য করতে পারছেন। পাকিস্তানে বসে একই ধরনের বক্তব্য রাখলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাশাপাশি, ফারুক আবদুল্লাহর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা
কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ, মানুষের অধিকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে। তার মধ্যেই ফারুক আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
একদিকে, ফারুকের বক্তব্যে পাকিস্তানের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক চাপের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অন্যদিকে, বিজেপি তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।




