কলকাতা: সংসারের খরচ, ব্যবসার প্রয়োজন কিংবা হঠাৎ কোনও আর্থিক সংকট টাকার প্রয়োজন মেটাতে অনেকেই এখন সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার পথে হাঁটছেন। ভারতে গোল্ড লোন বা সোনার ঋণের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে গোল্ড লোন গ্রহীতার সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। সোনার দাম বৃদ্ধি, তুলনামূলক সহজ ঋণ পাওয়ার সুযোগ এবং গয়না বিক্রি না করেও অর্থ সংগ্রহের সুবিধা এই প্রবণতার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিবারের ঘরে বিপুল পরিমাণ সোনা
ভারতীয় পরিবারের কাছে সোনা দীর্ঘদিন ধরেই সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সিকিউরিটিজ মার্কেটসের (NISM) ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে প্রায় ৩৫ হাজার টন সোনা রয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে এই সোনার মোট মূল্য প্রায় ৪৪৫ লক্ষ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোনার দাম বাড়লে বাড়িতে থাকা গয়নার বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পায়। ফলে একই পরিমাণ সোনা বন্ধক রেখে আগের তুলনায় বেশি ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ঋণের পরিমাণ নির্ভর করে সোনার বিশুদ্ধতা, মূল্যায়ন, ঋণদাতার নিয়ম এবং প্রযোজ্য বিধির উপর।
কেন বাড়ছে গোল্ড লোনের চাহিদা?
গোল্ড লোন জনপ্রিয় হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে।
প্রথমত, সোনার দাম বৃদ্ধির ফলে গয়নার বিপরীতে ঋণ পাওয়ার সম্ভাব্য অঙ্ক বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, অনেক পরিবার গয়না বিক্রি করতে চান না। তাঁদের কাছে সোনা পারিবারিক সম্পদ এবং ভবিষ্যতের সঞ্চয়। তাই প্রয়োজন মিটিয়ে ঋণ শোধ করে গয়না ফেরত পাওয়ার আশায় তাঁরা বন্ধক রাখাকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
তৃতীয়ত, সোনার ঋণে জামানত থাকে বলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ঋণের তুলনায় আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। ব্যাঙ্ক এবং নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলি (NBFC) এই ধরনের ঋণ দিয়ে থাকে। তবে সুদের হার, প্রসেসিং ফি, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা এবং অন্যান্য শর্ত প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা।
আরবিআইয়ের নিয়মে কতটা ঋণ পাওয়া যায়?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরবিআইয়ের ২০২৫ সালের গোল্ড লোন সংক্রান্ত নিয়মে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সোনার অনুমোদিত মূল্যের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এই সীমা সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; ঋণের অঙ্ক ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে।
ঋণ নেওয়ার আগে কী মাথায় রাখবেন?
গোল্ড লোন দ্রুত অর্থ সংগ্রহের সুযোগ দিলেও ঝুঁকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ ও সুদ পরিশোধ করতে না পারলে নিয়ম অনুযায়ী বন্ধক রাখা সোনা নিলাম হতে পারে। তাই ঋণ নেওয়ার আগে সুদের হার, অতিরিক্ত চার্জ, পরিশোধের সময়সীমা এবং খেলাপি হলে কী হবে, তা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, সোনার মূল্যবৃদ্ধি এবং জরুরি আর্থিক চাহিদা গোল্ড লোনের বাজারকে সম্প্রসারিত করছে। তবে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে নিজের পরিশোধের ক্ষমতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




