মুম্বই: বলিউড অভিনেতা আমির খানকে নিশানা করার পরিকল্পনা হয়েছিল! কিন্তু দিনের পর দিন নজরদারি চালিয়েও তাঁর গতিবিধি বুঝে উঠতে পারেননি অভিযুক্তেরা। কখনও শুটিংয়ের কাজে বাড়ির বাইরে, কখনও আবার টানা কয়েক দিন বাড়িতেই থাকতেন আমির। ফলে তাঁকে আক্রমণ করার সুযোগ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে তদন্ত সূত্রে খবর। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য বদলে অভিনেতা টাইগার শ্রফকে নিশানা করা হয় বলে অভিযোগ। মুম্বইয়ে টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এক মাস ধরে নজরদারি, লক্ষ্য ছিলেন আমির?
সূত্রের খবর, আমির খানকে নিশানা করার পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক জনকে মুম্বইয়ে পাঠানো হয়েছিল। প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা শহরে থেকে বিভিন্ন বলিউড তারকার বাড়ির আশপাশে নজরদারি চালান বলে অভিযোগ। আমিরের বাড়ির কাছেও অন্তত তিন বার গিয়েছিলেন অভিযুক্তেরা। কিন্তু অভিনেতার গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা তৈরি করতে পারেননি তাঁরা।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, আমির কখনও শুটিংয়ের কাজে বাড়ির বাইরে থাকতেন, আবার কখনও টানা কয়েক দিন বাড়ি থেকে বেরোতেন না। ফলে তাঁর যাতায়াতের নির্দিষ্ট সময় বা রুটিন বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে অনুমান তদন্তকারীদের। সেই কারণেই কি শেষ পর্যন্ত আমিরকে বাদ দিয়ে অন্য অভিনেতাকে নিশানা করা হয়েছিল? তদন্তে উঠে আসা তথ্য ঘিরে সেই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে।
লক্ষ্য বদলে টাইগার শ্রফ কেন?
সূত্রের দাবি, আমিরকে আক্রমণ করার সুযোগ না পেয়ে অভিযুক্তেরা অন্য অভিনেতাকে নিশানা করার পরিকল্পনা করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের লক্ষ্য হন টাইগার শ্রফ। জুহু এলাকায় ফুটবল খেলতে যাওয়ার অভ্যাস ছিল টাইগারের। তাঁর যাতায়াতের সময় ও রুটিন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা তুলনায় সহজ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়ির চালক এবং এক পথচারী আহত হন। ঘটনার পর তদন্তে নামে মুম্বই পুলিশ। অভিযুক্তদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত যোগাযোগ এবং হামলার নেপথ্যে সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে হামলার লক্ষ্য নিয়ে একাধিক দাবি সামনে এসেছে। আমিরকে প্রথমে নিশানা করা হয়েছিল, নাকি টাইগারই ছিলেন মূল লক্ষ্য—তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জুলাইয়ের হুমকির সঙ্গে যোগসূত্র?
চলতি বছরের জুলাইয়ে আমির খানের নামে একটি হুমকিমূলক সমাজমাধ্যমের পোস্ট এবং অডিয়ো ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানা যায়। সেখানে বক্তা নিজেকে ‘আরজু বিষ্ণোই’ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
রাজবীরের আচরণে ক্ষুব্ধ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, দিলেন ‘ফাইনাল ওয়ার্নিং’
সেই ঘটনার পর আমিরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এ বার টাইগার শ্রফের উপর হামলার তদন্তে আমিরকে প্রথম নিশানা করার অভিযোগ সামনে আসায় আগের হুমকির সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন
টাইগারের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, হামলার নির্দেশ কোথা থেকে এসেছিল, অভিযুক্তদের কে বা কারা সাহায্য করেছিলেন এবং তারকাদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য কী ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
আমিরের বাড়ির আশপাশে নজরদারি, টাইগারের যাতায়াতের রুটিন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত গুলি চালানোর ঘটনা—সব মিলিয়ে পরিকল্পনাটি আগে থেকেই করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য নির্দেশদাতা এবং হামলায় সাহায্যকারীদের ভূমিকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এক অভিনেতাকে নিশানা করতে না পেরে অন্য অভিনেতার উপর হামলার পরিকল্পনা—এই অভিযোগ সত্যি হলে বলিউডের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে আমিরকে প্রথম নিশানা করার দাবি, লক্ষ্য বদলের কারণ এবং জুলাইয়ের হুমকির সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক—সব প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।




